দুই বিমার শেয়ার কারসাজি খুঁজতে বিএসইসির তদন্ত কমিটি
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই বীমা কোম্পানির শেয়ারের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে। গত কয়েক কার্যদিবসে উভয় কোম্পানির শেয়ার ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দুই কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করে এই বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিগুলো হলো ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স এবং এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।
দুই কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গুজব ছড়ানোর কারণে দুই কোম্পানির শেয়ারদর নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যা দুই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য ভালো খবর নয়।
অন্যদিকে, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স এবং এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যার কারণে দুই কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি দেখবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৬ কার্যদিবসে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ৩১.২৫ শতাংশ। অন্যদিকে এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর গত ১৫ কার্যদিবসে ২৮.৩০ শতাংশ বেড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৬৩ টাকা। ৩০ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারের দর ছিল ৪৮ টাকা। গত ৬ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ১৫ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা ৪ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ১৪৪টি। সে অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল ২৭১ কোটি ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ৭২ টাকা। যা ৩০ আগস্ট মোট শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ২০৬ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার ৯১২ টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্য বেড়েছে ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫২ হাজার ১৬০ টাকা।
অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকায়। গত ১৬ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারের দর ছিল ৫৩ টাকা। গত ১৫ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা ৪ কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার। সে অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল ২৮৮ কোটি ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। গত ১৬ আগস্ট মোট শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ২২৪ কোটি ৫০ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্য বেড়েছে ৬৩ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
দুই শেয়ারে কারসাজির অভিযোগ করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ও এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের কারসাজি করে শেয়ারের দাম বাড়িয়েছে। ফলে কয়েকদিনের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। এই ধরনের হার বৃদ্ধি ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ানো হয়. এটি আরও বাড়বে বলে গুঞ্জন মতিঝিল এলাকার সিকিউরিটি হাউসগুলোতে রয়েছে।
তবে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ জানতে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিগুলোকে নোটিশ পাঠায় ডিএসই। জবাবে কোম্পানি দুটি জানায়, কোনো অপ্রকাশিত মূল্য-সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারের দাম বাড়ছে।
এদিকে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ও এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি বিএসইসির কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। তাই কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো অনিয়ম আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। তিনি আরও বলেন, শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে। কোম্পানিটি দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৫৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল-জুন) শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৮২ পয়সা। ৩০ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়ায় ৫৩ টাকা ২৪ পয়সা। আলোচনার সময় কোম্পানিটির নগদ প্রবাহ ছিল ২৬ পয়সা।
আর্থিক বছরের দুই প্রান্তিকে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৩০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১.৯৮ পয়সা। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন একশ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।
এদিকে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ৮৯ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল-জুন) শেয়ার প্রতি মুনাফা ছিল ৯৩ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়ায় ২৩ টাকা ৭ পয়সা। আলোচনার সময় কোম্পানিটির নগদ প্রবাহ ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা।
অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে দুই টাকা ৫০ পয়সা। আয়
