বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

বিমা কোম্পানির নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সিইওদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনে

পুঁজিবাজার প্রেস.কম : বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) দুর্বলতার কারণে এ খাতে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইন লঙ্ঘন করে দায়িত্ব পালনকারী সিইও এবং বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইডিআরএ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ জুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। একই সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ বিষয়টি জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডিআরএর এ ধরনের কার্যক্রম বীমা কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতাকে উৎসাহিত করছে। বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যানরা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে নিজের স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত, সে জন্য তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনকে সিইও পদে নিয়োগ/পুনঃনিয়োগ করছেন এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পেলেও তাদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং প্রিমিয়ামের টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়ার কারণে বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ওই সব বীমা কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে সিইও নিয়োগ না হওয়ায় কোম্পানিগুলোর সঠিকভাবে পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে এবং অন্যান্য বীমা কোম্পানির জন্য এই অনিয়ম দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করছে।

প্রতিবেদনে দেশের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বীমা কোম্পানির চলতি দায়িত্বে থাকা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইন লঙ্ঘন করে দায়িত্ব পালন করায় তাদের বিরুদ্ধে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্ডিয়ান লাইফ, সোনালী লাইফ, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স ও রূপালী ইন্স্যুরেন্সের সিইওরা দীর্ঘদিন ধরে বীমা আইন লঙ্ঘন করে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, ওই কোম্পানিগুলোতে পূর্ণাঙ্গ সিইও নিয়োগে কার্যকর ভূমিকা নিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা আইন অনুসারে কোনো কোম্পানির সিইও পদ সর্বোচ্চ তিন মাস খালি রাখা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আরও তিন মাস বাড়ানো সম্ভব। এর পরও পূর্ণকালীন সিইও নিয়োগ না হলে আইডিআরএ প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে। কিন্তু এই বিধান দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ব্যাহত হচ্ছে।

গার্ডিয়ান লাইফের সিইও শেখ রাকিবুল করিম ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি, সোনালী লাইফের মো. রফিকুল ইসলাম ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফের এসকে আব্দুর রশিদ ২০২৩ সালের ১ জুলাই, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের মোশাররফ হোসেন ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর এবং রূপালী ইন্স্যুরেন্সের ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত জানুয়ারিতে আইডিআরএ গার্ডিয়ান লাইফ ও রূপালী ইন্স্যুরেন্সকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণকালীন সিইও নিয়োগের নির্দেশ দেয়। তবে এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো আইন অমান্য করার সুযোগ পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *