বোর্ডে পরিচালক না থাকলে কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক না থাকলে চলতি বছরের জুনের মধ্যে নিয়োগ না দিলে আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। রোববার জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
এ নির্দেশনা আসে বিএসইসি এবং কোম্পানি সচিবদের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে। বৈঠকে করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং বিদ্যমান ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ২৯৪টি কোম্পানির মধ্যে এখনো ১৩১টি কোম্পানি পরিচালনা পর্ষদে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য, করপোরেট নেতা, সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত বা কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা, পেশাগত ডিগ্রিধারী কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবীদের মধ্য থেকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে হয়।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)-এর সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ বলেন, তারা জেন্ডার সমতার পক্ষে এবং কোম্পানিগুলোও নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে আগ্রহী। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে উপযুক্ত সিনিয়র নারী পেশাজীবীর ঘাটতি রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একজন নারী স্থপতিকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তার মতে, সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের নির্বাচন ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
রিয়াদ মাহমুদ আরও বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের ব্যবসার খুঁটিনাটি বোঝা বাধ্যতামূলক নয়। বরং একজন নারীর বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্য সংযোজন করতে পারে।
উল্লেখ্য, বিএসইসির করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড-২০১৮, যা ২০২৪ সালে সংশোধিত হয়, অনুযায়ী অনিয়মে থাকা কোম্পানিগুলোকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একজন নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
