রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ব্যাংক

মুনাফা, ইপিএস ও এনএভি বৃদ্ধিতে সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারে আস্থা

শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে সাউথইস্ট ব্যাংক -এর শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। শুধু বাজারের চাহিদা নয়, ব্যাংকটির সর্বশেষ আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করলেও শেয়ারদর বাড়ার পেছনে বেশ কিছু মৌলিক কারণ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মুনাফার শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, ইপিএস বৃদ্ধি, এনএভি উন্নতি এবং বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ছয় মাসেই মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ সাউথইস্ট ব্যাংকের।

২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ২১৮.৭৭ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ১৩৩.৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ। শেয়ারবাজারে কোনো ব্যাংকের শেয়ার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মুনাফার প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। ফলে সাউথইস্ট ব্যাংকের এই শক্তিশালী মুনাফা প্রবৃদ্ধি শেয়ারটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে।

ইপিএস-এ বড় উন্নতি

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত EPS হয়েছে ১.৬৪ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয়ও প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। এখানেই শেয়ারদর বৃদ্ধির অন্যতম মৌলিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। কারণ শেয়ারদর শুধু কোম্পানির মোট মুনাফার ওপর নয়, শেয়ারপ্রতি আয় কত হচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে।

এনএভি বেড়েছে

সাউথইস্ট ব্যাংকের এনএভি বা শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ শেষে এনএভি দাঁড়িয়েছে ২৭.১৬ টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৪.৩৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ১১.৬ শতাংশ। বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে এনএভি তুলনা করলে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকটির শেয়ারকে সম্পদভিত্তিক মূল্যায়নের দিক থেকেও বিবেচনা করতে পারেন।

বিনিয়োগ আয় বড় ভূমিকা রাখছে মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে। বিশেষ করে সরকারি সিকিউরিটিজ—ট্রেজারি বিল ও বন্ড—এ বিনিয়োগ থেকে ব্যাংক ভালো আয় করেছে। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর থাকায় সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ব্যাংকের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে। এটি স্বল্পমেয়াদে ব্যাংকের জন্য ইতিবাচক। তবে বিনিয়োগকারীদের মনে রাখতে হবে, শুধু বিনিয়োগ আয়-এর ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা বাড়ানো সম্ভব নয়; মূল ব্যাংকিং ব্যবসা থেকেও আয় বাড়াতে হবে।

প্রভিশন কমেছে

মুনাফায় সরাসরি প্রভাব আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে প্রভিশন-এর প্রয়োজন কমে যাওয়া। ফলে আগের বছরের তুলনায় কম প্রভিশন রেখে ব্যাংক বেশি মুনাফা দেখাতে পেরেছে। তবে এই জায়গায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রভিশন কমে যাওয়া তখনই টেকসই ইতিবাচক সংকেত হবে, যদি ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই শুধু প্রভিশন কমেছে দেখে ব্যাংকের সম্পদের গুণমান পুরোপুরি ভালো হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করেন আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা।

২০২৫ সালেও মুনাফায় বড় উল্লম্ফন সাউথইস্ট ব্যাংকের

২০২৫ সালের বার্ষিক ফলাফলও বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী হওয়ার কারণ তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকের বার্ষিক মুনাফা প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের প্রায় ৪৩ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৭.৭ গুণ বেশি। এই বৃদ্ধির পেছনেও প্রধান ভূমিকা ছিল কম প্রভিশন প্রয়োজন হওয়া। অর্থাৎ ২০২৫ সালের বার্ষিক ফলাফল এবং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের ফলাফল—দুই সময়েই মুনাফায় উন্নতির ধারাটি দেখা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *