রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কহার কমিয়েছে ‘

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে রেসিপ্রোকাল শুল্ক শূন্য থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সময় রাতেই চুক্তিটি সই হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। গত বছরের এপ্রিল থেকে দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী আলোচনার পর এ চুক্তিটি চূড়ান্ত হলো।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের প্রধান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘এ চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক নতুন উচ্চতার সূচনা করল। এর ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই একে অপরের বাজারে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পণ্য প্রবেশের সুবিধা পাবে।’
চুক্তির শর্তানুসারে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ দলের প্রধান আলোচক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করায় আমাদের রফতানিকারকরা আরও বাড়তি সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ‘শূন্য’ শুল্ক সুবিধা আমাদের তৈরি পোশাক খাতে ব্যাপক গতি সঞ্চার করবে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে। উভয় পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পর এটি কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শুরুতে বাংলাদেশের জন্য এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ, যা গত বছরের আগস্টে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছিল। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ প্রক্রিয়া চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তুলা এবং মানবসৃষ্ট তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাক পণ্য মার্কিন বাজারে ‘শূন্য’ পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *