বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

রেলওয়ের কর্মীদের কর্মবিরতী শুরু, ট্রেন চলাচল বন্ধ

বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন রেলওয়ের কর্মচারীরা। বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১২টার পর শিডিউলে থাকা ট্রেনগুলোতে ওঠেননি রানিং স্টাফরা। ফলে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি। ট্রেন চালক, গার্ড ও টিকিট চেকার পদধারীরা রয়েছেন রানিং স্টাফের মধ্যে।
এর আগে রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগপত্রের শর্ত সংশোধন করে রানিং স্টাফরা রেলওয়ে এস্টাবলিশমেন্ট কোড ভলিউম অনুযায়ী রানিং অ্যালাউন্স প্রাপ্য হবেন বলা হলেও আবার বলা হয়েছে মাসিক রানিং অ্যলাউন্সের পরিমাণ প্রাপ্য মূল বেতনের বেশি হবে না। রেলওয়ে এস্টাবলিশমেন্ট কোড ভলিউমে রানিং অ্যালাউন্স প্রাপ্যতার বিষয়ে কোনো ধরনের সীমা নেই, যতটুকু কাজ করবে, আইন অনুযায়ী ততটুকু রানিং অ্যালাউন্স পাবে।
বাংলাদেশ রেলওয়েতে মনগড়া শর্ত আরোপের সুযোগ নেই দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সবই বাংলাদেশের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আইনের কিছু অংশ মেনে নেবো, কিছু অংশ মেনে নেবো না, এ ধরনের কোনো কিছু করা বেআইনি।
বৈষম্যমূলক শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত রানিং স্টাফদের নিয়োগপত্রের বৈষম্যমূলক শর্ত এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৩ জানুয়ারির রেলওয়ে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পত্র বাতিল করে রেলওয়ে কোড ও বিধি বিধানের আলোকে আদেশ জারি করা না হলে ২৮ জানুয়ারি থেকে সব রানিং স্টাফ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালনে বাধ্য হবেন।
এদিকে, রেলের রানিং স্টাফদের ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয় রানিং স্টাফদের দাবি-দাওয়া/চাহিদা পূরণে যথেষ্ট আন্তরিক ও সর্বোচ্চ সচেষ্ট। এরই মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে রানিং স্টাফদের দাবি-দাওয়াগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পত্র যোগাযোগের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও অব্যাহত আছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে এরই মধ্যে তাদের রানিং অ্যালাউন্স ৭৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া মাইলেজ অ্যালাউন্স পাওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৮ ঘণ্টা ও ১০০ মাইল দূরত্বের শর্তও শিথিল করা হয়েছে। রানিং স্টাফদের অন্যান্য দাবি আদায়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় যথেষ্ট আন্তরিক ও সচেষ্ট রয়েছে।
এ অবস্থায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করে রেলের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য রেলওয়ের সব কর্মকর্তা/কর্মচারীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *