সংস্কারের আশ্বাস, তবুও থামছে না শেয়ারবাজারের পতন
শেয়ারবাজারে সংস্কার ও নানা ধরনের পরিবর্তন আনার কথা নিয়মিতই বলা হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এক বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারের চেহারা বদলে যাবে। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বক্তব্য দেন।
তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে বক্তারা শেয়ারবাজার নিয়ে ইতিবাচক বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের কথা বললেও চলমান ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কার্যকর কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, এ কারণেই পরদিনও বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ধারাবাহিক দরপতনের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে শেয়ারবাজার।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভবিষ্যতের সংস্কার ও পরিবর্তনের পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য থাকা উচিত ছিল।
তাদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বাজার স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও বাস্তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর মতো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের বাজারের প্রতি আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নাকি লাভবান হচ্ছেন, সে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান অনেকটা ‘শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার’ মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, বাজারে একটি চক্র বিভিন্ন ধরনের কৌশল ও ফন্দিফিকিরের মাধ্যমে বাজারকে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বাজারকে পুরোপুরি নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়ার কথা বলা হলে ওই চক্র আরও বেশি সুযোগ পেয়ে যেতে পারে। এতে তাদের তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি বাজারের পরিস্থিতি আরও তলানির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, আগামী দিনের বাজারের পরিবর্তন ও সংস্কারের কথা বলে বর্তমান পতন ঠেকানোর দায় থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেন নিজেদের সরিয়ে রাখছে। নতুন কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে উত্থানের তুলনায় পতনের মাত্রাই বেশি দেখা যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে শুধু পদ ধরে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ধারাবাহিক দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের লোকসান প্রতিদিনই বাড়ছে। অথচ পতন ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের কথা বলে সংশ্লিষ্টরা যেন নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, আজ (০৫ অক্টোবর) সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৭ দশমিক ০৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৪৫ দশমিক ২৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৯ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর নির্বাচিত ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮১ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ২৮৪টির এবং ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে দিনটিতে প্রায় ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। সে হিসাবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন মোট ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সেখানে লেনদেন বেড়েছে।
সিএসইতে আজ লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ১২০টির দর কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দিনশেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪০ দশমিক ২১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৬২০ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন সিএএসপিআই সূচক ১৭১ দশমিক ২০ পয়েন্ট কমেছিল।
