শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি দুদক বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে বিএসইসি প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য দুদকে পাঠিয়েছে বলে সংস্থাটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
দুদকের পাঠানো চিঠিতে অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনকে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং বিএসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগের নীতিমালা সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি দায়িত্ব পালনকালে আইপিও সুবিধা, শেয়ার অধিগ্রহণ/হস্তান্তর, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ, সেকেন্ডারি মার্কেটে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং এসবের সঙ্গে জড়িত অনিয়ম বা কারসাজি সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, দায়িত্বকালীন সময়ে যে কোম্পানিগুলোকে আইপিও সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, সেসব কোম্পানির তালিকা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে দুদক। মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড খাতের রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএলসি ও এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কর্তৃক ইউনিট হোল্ডারদের অর্থ তছরুপের অভিযোগে কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে, তার রিপোর্ট ও গৃহীত ব্যবস্থার কপি দিতেও বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও বা তালিকাভুক্তি এবং রিং শাইন টেক্সটাইলের প্লেসমেন্ট কেলেঙ্কারির ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার বিস্তারিত প্রতিবেদন ও রেকর্ডের কপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সালভো কেমিক্যাল, জেনেক্স ইফোসিস, ওরিয়ন ইনফিউশনস, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ, সি পার্ল বিচ রিসোর্টস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট স্পিনার্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ইন্ডাস্ট্রিজ ও খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং–এর শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো অনুসন্ধান হলে তারও নথি চেয়েছে দুদক
এছাড়া, বিএসইসি কর্তৃক শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ সংক্রান্ত সব রেকর্ডপত্র, প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর নীতিমালা, এবং এসব প্লেসমেন্ট শেয়ারের সুবিধাভোগীদের বিস্তারিত তথ্যসহ রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসি ইতোমধ্যে দুদকের চাহিদা অনুযায়ী সব প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য পাঠিয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে বিএসইসিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ১৫ মে অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ পান, পরে ৪ বছরের জন্য পুনঃনিয়োগ পান এবং সর্বশেষ আরও ২ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *