সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

স্টার্লিংয়ের এফডিআরের টাকা দেয়নি ফারইস্ট ফাইন্যান্স, তদন্ত কমিটি

পুঁজিবাজার প্রেস.কম : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এফএফআইএল) স্টার্লিং ক্রিয়েশনস লিমিটেডের স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) অর্থ পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিএসইসি সম্প্রতি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত ৬০ দিন সময় চেয়ে আবেদন করে কমিটি।

এফএফআইএলের কাছে স্টার্লিংয়ের অনাদায়ী এফডিআরের অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা ছিল কি না তা যাচাই।

কোম্পানিটি ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থ পরিশোধে বিরত ছিল কি না।

কোনো সিকিউরিটিজ আইন, নির্দেশনা বা নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে কি না।

পাওনাদার প্রতিষ্ঠান আইনগত নোটিশ পাঠিয়েছে কি না এবং তাতে এফএফআইএলের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল।

করপোরেট গভর্নেন্স কোড, ২০১৮-এর কতটা পরিপালন করেছে এফএফআইএল।

পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে।

তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক সুলতানা পারভীন, সহকারী পরিচালক ফারজানা ইয়াসমিন ও মো. তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি এফএফআইএল। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। অর্থাৎ টানা ৮ বছর ধরে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ পাচ্ছেন না।

বর্তমানে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ১৬৪ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৯.৭৪ শতাংশ শেয়ার, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৭.৬৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে করা একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে ফারইস্ট ফাইন্যান্সকে সমস্যাগ্রস্ত ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলধন ঘাটতি, উচ্চ ঋণ খেলাপি ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে এ প্রতিষ্ঠানটিকে একীভূত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৩১ মে পর্যন্ত শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৩.৫০ টাকায়। কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৪০ কোটি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৮২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

তবে এসব বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *