শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

রুপালী লাইফের হিসাব নিকাশ গড়মিল

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক হিসাবে ৬৯ কোটি টাকার বেশি গরমিল পেয়েছে নিরীক্ষক। যা কোম্পানিটির সর্বশেষ ২০২৪ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক বুক/লেজারে নগদ অর্থ দেখিয়েছে ৯১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে কোম্পানির হিসাবের সঙ্গে ব্যাংক স্টেটমেন্টের পার্থক্য ৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
এদিকে বীমা কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে এজেন্টের কাছে পাওনা হিসেবে ২৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা দেখিয়ে আসছে। যা আদায়যোগ্য বলে মনে করছে না নিরীক্ষক। এরপরেও ওই ফান্ডের সম্ভাব্য লোকসানের বিপরীতে আইএফআরএস-৯ অনুযায়ি সঞ্চিতি গঠন করেনি।
এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে দেখানো ৬৫ লাখ টাকার হিসাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন না করায় নিস্ক্রিয় (ডরমেন্ট) হয়ে গেছে। তারপরেও নিরীক্ষক যাচাই-বাছাই করে ওইসব হিসাবে সত্যিকার অর্থে ৩০ লাখ টাকা পেয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ৩৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদ দেখিয়েছে।
রূপালি লাইফ থেকে কর্মীদেরকে অগ্রিম বেতন ও মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও মোবাইলের জন্য অগ্রিম ২১ লাখ টাকা প্রদান করেছে। কিন্তু এই অগ্রীম প্রদানকৃত হিসাব দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থায় রয়েছে। এক্ষেত্রে কোন সমন্বয় হয়নি। তারপরেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ওই অগ্রিম আদায় বা সমন্বয় নিয়ে সম্ভাব্য লোকসানের বিপরীতে কোন সঞ্চিতি গঠন করেনি।
তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মো. কামরুজ্জামানকে দেওয়া অগ্রিম ৬ লাখ টাকার বেতন আদায়ে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩০ কোটি ১ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৭.৯৩ শতাংশ। কোম্পানিটির মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১০৯.৮০ টাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *