ডিএসই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল জব্দের অভিযোগ, উঠেছে গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লিমিটেডে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসাদুর রহমান এবং মানবসম্পদ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এইচআর হাসান তারেকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো ধরনের লিখিত নির্দেশনা বা সম্মতি ছাড়াই তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও কর্মক্ষেত্রে অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, গত নভেম্বর মাসে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি আসাদুর রহমান ৫ থেকে ৬ জন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। প্রায় এক ঘণ্টা ফোনগুলো তার কাছে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত ও জরুরি যোগাযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন ছিলেন বলে জানা গেছে।
এরপর গত সপ্তাহে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা। এবার ডিএসইর মানবসম্পদ বিভাগের জিএম এইচআর হাসান তারেক বিভাগের ৪ নারী ও ৩ পুরুষ কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ফেরত দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অফিস চলাকালে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকলে কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ বা সতর্ক করতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত ডিভাইস জোর করে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষ করে নারী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত মোবাইলে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা ধরনের তথ্য থাকতে পারে। ফলে তাদের অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোন নিজেদের কাছে রাখা হলে তা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে নাগরিকের চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমের গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত। তবে কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ বা তাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনগত কর্তৃত্ব ও প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট আইনের ওপর।
কর্মক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার পদমর্যাদা বা প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকলেই অন্য কর্মীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি, মোবাইল ফোন কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইচ্ছামতো হস্তক্ষেপের অধিকার সৃষ্টি হয় না—এমন মতও রয়েছে। সম্মতি বা যথাযথ আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া ব্যক্তিগত ডিভাইসে প্রবেশ, তথ্য সংগ্রহ বা তথ্য যাচাইয়ের মতো কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে ব্যক্তিগত ডিজিটাল ডিভাইসে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ বা অনধিকার প্রবেশের বিষয়ে Cyber Security Act, 2026-এ আইনগত বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ক্ষমতার আওতায় ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আইনগত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিএম এইচআর হাসান তারেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিএসইর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ধরনের আচরণে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন।
