২১ পয়েন্ট উত্থানেও স্বস্তি নেই শেয়ারবাজারে
টানা পতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকসহ সব সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে টাকার অংকে লেনদেন। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও বেড়েছে।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মঙ্গলবারের বড় উত্থানের ধারাবাহিকতা আজকের বাজারে দেখা যায়নি। মঙ্গলবার দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ৯৩ পয়েন্ট বাড়লেও বুধবার বেড়েছে মাত্র প্রায় ২১ পয়েন্ট। ফলে সূচকের এই উত্থানকে প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর পর থেকেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। কিন্তু বুধবার ছিল ভিন্ন চিত্র। দিনজুড়ে সূচকের ওঠানামায় কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারী লেনদেনের পরিমাণ কমিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি বুঝতে অনেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। ফলে দিনশেষে সূচক বাড়লেও তা বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ী সন্তোষজনক হয়নি।
এর আগে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবার শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ওই বৈঠকে বাজার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাবনা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথা জানানো হয়। এরপরও বুধবার প্রত্যাশিত গতিতে বাজার ঘুরে দাঁড়ায়নি।
এখন আগামী দিনগুলোতে শেয়ারবাজার কোন দিকে যায়, সেটিই দেখার বিষয়। তবে বাজারের পতন ঠেকিয়ে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে কার্যকর বাজার মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবস বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১.৬০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৯৪.০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৫.৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯.২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৫.২৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯২.৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, ১৫৩টির দর কমেছে এবং ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বুধবার ডিএসইতে প্রায় ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫০৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৫১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বুধবার ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে সিএসইতেও লেনদেন বেড়েছে।
এদিন সিএসইতে মোট ১৭৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৫৮টির দর কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বুধবার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৪.৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৭৩.৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন সিএএসপিআই সূচক বেড়েছিল ৪৪.৬০ পয়েন্ট।
