দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে- বিনিয়োগ নীতি হচ্ছে, প্রণোদনা পাবেন বিনিয়োগকারীরা
পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিমালা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর খসড়া নিয়ে কাজ করছে। সব স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এতে সবুজ অর্থায়নের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতিসহ বিভিন্ন প্রণোদনা থাকবে।
রোববার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে বাংলাদেশ ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিআই) ৬০তম বার্ষিকী ও বিনিয়োগ মেলা-২০২৩ অনুষ্ঠানের প্যানেল অধিবেশনে বিডা’র নির্বাহী সদস্য (বিদেশি বিনিয়োগ উন্নয়ন) মোহসিনা ইয়াসমিন এসব কথা বলেন। .
তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারী, বেসরকারি খাত ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে বিনিয়োগ নীতি চূড়ান্ত করা হবে। আমাদের লক্ষ্য একটি টেকসই বিনিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মহসিনা ইয়াসমিন বলেন, বিশ্বব্যাংক ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচক প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আমরা আমাদের ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট প্রোগ্রাম’ নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছি। যার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসায়িক পরিবেশের সূচক নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিরাপদ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ হচ্ছে।
‘গ্রিন ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক এই সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্মার্ট বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের কো-চেয়ার ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতারের মধ্যে অন্যদের মধ্যে বিল্ডের চেয়ারপারসন ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, গ্রামীণ ফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো: সমীর সাত্তার অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা
এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমরান রহমান। সকালে ফিকহের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অধিবেশনের প্রধান অতিথি আবুল কালাম আজাদ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। একটি হাই-টেক পার্ক আছে। এখানে বিনিয়োগের জন্য বিদেশী কোম্পানিগুলোর প্রতি উদার আহ্বান।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়সহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়। সবুজ মূল্য শৃঙ্খলে ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে।
ব্যারিস্টার নিহাদ কবির পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বেশির ভাগ কারখানার খরচ বাড়ছে। এখানে সরকারকে প্রণোদনা দেওয়া জরুরি। পোশাক কারখানা ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের দাম বেশি হওয়া উচিত। বিদেশি ক্রেতাদের উচিত পরিবেশবান্ধব পণ্যের দাম বাড়ানো। অধিবেশনে অন্যান্য বক্তারা সবুজ মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার জন্য একটি প্রগতিশীল কৌশল নির্ধারণের উপর জোর দেন।
