মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

ফ্লোর প্রাইস ওঠা বিএটিবিসির শেয়ার বিক্রির হিড়িক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ–আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ বা বিএটিবিসির ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর উঠলো আজ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) জারি করা সবশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার থেকে ফ্লোর প্রাইস ওঠেছে। তবে ফ্লোর প্রাইস ওঠার দিনে কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রিতে হিড়িক পড়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ফ্লোর প্রাইস ওঠা বিএটিবিসির শেয়ার দিনের শুরুতেই দাম কমিয়ে বিক্রি শুরু ক

দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত ৫২৭ বার হাতবদলে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪০ হাজার ৭৬টি। যার আর্থিক মূল্য ১ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার টাকা। একইসময়ে ট্রেডিং স্ক্রিনে শেয়ার বিক্রির আবেদন ছিলো ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৫২১টি। যার মধ্যে আজকের সর্বনিম্ন দামে (৪৭৯ টাকা ৮০ পয়সা) শেয়ার বিক্রির আবেদন ছিলো ৯ লাখ ৭৮ হাজার ২৫৭টি। বিপরীতে আলোচ্য সময়ে ট্রেডিং স্ক্রিনে কোন ক্রেতা দেখা যায়নি।

গতকাল ফ্লোর প্রাইস ওঠে যাওয়া গ্রামীণফোনের শেয়ার বিক্রিতেও একই চিত্র দেখা গিয়েছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছিলো ২৫ টাকা বা ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। তাতে দরপতনের শীর্ষে জায়গা নিয়েছিলো কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে গত ১৯ জানুয়ারি প্রায় দেড় বছর পর ‘ফ্লোর প্রাইস’ প্রত্যাহার করা হয়। তবে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হলেও ৩৫টি কোম্পানির সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বহাল রাখে বিএসইসি। পরবর্তীতে বাজারে লেনদেনের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় ধাপে ধাপে তা কমিয়ে মাত্র ৬ কোম্পানিতে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু তিন কোম্পানির বেলায় আলাদা শর্ত জুড়ে দেয় বিএসইসি। নির্দেশনায় জানানো হয়- রবি, জিপি এবং বিএটিবিসির ফ্লোর প্রাইস তাদের রেকর্ড তারিখের পরেরদিন উঠবে।

সমাপ্ত ২০২৩ হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা বিএটিবিসির রেকর্ড তারিখ ছিলো গতকাল রবিবার। ফলে বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আজ কোম্পানিটি ফ্লোর প্রাইস ছাড়া লেনদেন করছে। তবে ফ্লোর প্রাইস বহাল না থাকলেও একদিনের লেনদেনে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন সীমা বহাল থাকবে।

পুঁজিবাজারের দরপতন ঠেকাতে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বিএসইসি। ফ্লোর প্রাইস এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড বিএসইসির বেঁধে দেওয়া দামের নিচে নামতে পারে না। ফলে শেয়ারবাজারে একধরনের স্থবিরতা বিরাজ করে, পাশাপাশি কমে যায় লেনদেন। এমন এক পরিস্থিতিতে গত ২১ জানুয়ারি প্রথম দফায় ৩৫টি বাদে বাকি সব প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় ২৩ জানুয়ারি তুলে নেওয়া হয় আরও ২৩ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস। সর্বশেষ গত ৬ ফেব্রুয়ারি আরও তিন কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এখন পর্যন্ত ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকা ৬টি কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার, বিএসআরএম লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও শাহজিবাজার পাওয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *