মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
আজকের সংবাদ

উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধ রয়েছে ২০২০ সাল থেকে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধ রয়েছে ২০২০ সাল থেকে। ওই বছরের ৯ মাসের (জানুয়ারি-অক্টোবর) আর্থিক হিসাব প্রকাশের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। তবে নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে ওই বছরের শেষ ৩ মাসেরসহ পুরো বছরের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে কোম্পানিটির দেখানো ৯ মাসের ১.৬৮ টাকার শেয়ারপ্রতি মুনাফা পুরো বছরে নেমে এসেছে শেয়ারপ্রতি (৩৩.১৩) টাকা লোকসানে।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, উত্তরা ফাইন্যান্সের ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে (৩৩.১৩) টাকা। তবে এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ওই বছরের ৯ মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) দেখায় ১.৬৮ টাকা।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটির ২০২০ সালে সুদজনিত লোকসান হয়েছে ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এতে করে পরিচালন লোকসান ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। যা আরও বেড়ে নিট লোকসান দাঁড়ায় ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়। এতে করে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়ায় (৩৩.১৩) টাকায়।
এই বড় লোকসানে কোম্পানিটির ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়।
নিরীক্ষক জানান, নিরীক্ষার সময় ২০১৯ সালের কোম্পানির হিসাবের সাথে প্রকাশিত আর্থিক বিবৃতির উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুসারে একটি বিশেষ নিরীক্ষার ভিত্তিতে পুনঃনির্ধারিত করা হয়।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করে উত্তরা ফাইন্যান্স। এরপরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস অ্যান্ড মার্কেটস বিভাগ (ডিএফআইএম) কোম্পানির প্রকৃত চিত্র খুঁজে বের করে আনতে বিশেষ নিরীক্ষা করে। এক্ষেত্রে বিশেষ নিরীক্ষায় নিরীক্ষক রহমান রহমান হক কোম্পানিটির ২০১৯ সালের আর্থিক হিসাবের প্রতিটি ধাপে মিথ্যা তথ্য পায়।
অনেকটা একই প্রক্রিয়ায় বে লিজিং কর্তৃপক্ষ বে লিজিং কর্তৃপক্ষ জালিয়াতি করে। তারা ২০২১ সালের ৯ মাসে কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়ে শেয়ার বিক্রি করে। এরপর পুরো বছরে লোকসান দেখায়।
বে লিজিং কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের ১ম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২১) শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) দেখায় ২.৭৫ টাকা। তবে ১২ মাসে বা ২০২১ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই মুনাফাতো দূরের কথা ৯৯ পয়সা করে লোকসানের তথ্য বেরিয়ে আসে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১৩১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৫৫.৫৬ শতাংশ। কোম্পানিটির সোমবার (০৬ অক্টোবর) শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৩.০০ টাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *