এক লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্য ঘাটতি
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ হাজার ৯৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৫ হাজার ২৩৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে ১ হাজার ৭১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় প্রতি ডলার ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা যার পরিমাণ এক লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ব্যালেন্স (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৯৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৫ হাজার ২৩৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এ কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে এক হাজার ৭১৫ কোটি ৫০ লাখ (১৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন) ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা প্রতি এক ডলার ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। গত অর্থবছরে আমদানি কমেছে ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ, রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।
এছাড়া গত অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ কোটি ৪০ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৮৬৩ মিলিয়ন ডলার।
সার্বিক ভারসাম্যে বাংলাদেশের বড় ঘাটতি রয়েছে। গত অর্থবছরের সামগ্রিক নিট আয় (নেতিবাচক) ছিল $৮২২.২ মিলিয়ন। গত বছরের একই সময়ে এই সূচকে ঘাটতি ছিল ৬৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা বেড়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে, বাংলাদেশ ৪৬৩.৬ মিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে। গত অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে।
বিনিয়োগকারী কোম্পানির মুনাফা কেড়ে নেওয়ার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ থেকে যা অবশিষ্ট থাকে তাকে নেট এফডিআই বলে।
আলোচিত অর্থবছরে নিট বিদেশী বিনিয়োগও হ্রাস পেয়েছে। এই সূচকটি আগের বছরের তুলনায় ১১.৮২ শতাংশ কমে ১.৬১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১৮২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২ হাজার ১৬১ মিলিয়ন ডলার। গত বছর প্রবাসীরা ২ হাজার ৩৩ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন। প্রবৃদ্ধি ২.৭৫ শতাংশ।
