ডিজিটাল ব্যাংক চালুর অনুমোদন পেল ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ
‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাও!’ কাঠামোর আওতায় ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে ভিওনের নতুন পদক্ষেপ
[ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬] বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর অনুমোদন পেয়েছে নাসডাকে তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওন ও বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপ। এর ফলে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় প্রবেশ করল ভিওন। এর আগে বাংলালিংকের ডিজিটাল লেনদেন সেবা ‘মুক্ত পে’ পরিচালনার জন্য পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে
অনুমোদন পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
ভিওনের ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাও!’ কাঠামোর আওতায় এ অনুমোদনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভিওনের এই পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে। বাংলাদেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার লক্ষ্যের অংশ হিসেবে
ভিওন প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিনিয়োগের আওতায় কানেক্টিভিটি, ডিজিটাল অবকাঠামো, ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থাকে ভিত্তি করে নতুন ডিজিটাল ব্যাংকটি বাংলালিংকের মোবাইল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন আর্থিক সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ভিওনের বৈশ্বিক প্রযুক্তি–অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্কয়ার গ্রুপের দেশের উৎপাদন, বিতরণ ও খুচরা নেটওয়ার্কের সমন্বয় করে প্রচলিত আর্থিক সেবার বাইরে থাকা মানুষের কাছে আধুনিক ব্যাংকিং
সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের।
ভিওনের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কান তেরজিওগ্লো বলেন, "দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম উপায় হতে পারে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ। আজকের এই অনুমোদন বাংলাদেশে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে অব্যাহত সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। স্কয়ার গ্রুপের মতো
বিশ্বস্ত ও সুপ্রতিষ্ঠিত অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা আরও মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এ অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, “স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরীর ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর অনুমোদন পেয়ে আমরা আনন্দিত। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, তাতে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত। ভিওনের রয়েছে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা।
অন্যদিকে, গত ৬৮ বছরে স্কয়ার গ্রুপ দেশের মানুষের কাছে একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে দেশের মানুষ এর সেবা থেকে উপকৃত হবে বলে আমরা আশা করি।” বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে বলেন, “‘মুক্ত পে’ চালুর পর এবার আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার অনুমোদন পেয়েছি। এর মাধ্যমে দেশের সব মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে পারব, বিশেষ করে যারা এখনো প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়েছেন। দেশজুড়ে বাংলালিংকের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও শক্তিশালী বিতরণব্যবস্থা রয়েছে। এর সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবা যুক্ত করে নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে আমরা ভূমিকা রাখতে পারব।”
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত পাকিস্তান, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানে ভিওনের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ ৫ কোটি ৯০ লাখ সক্রিয় আর্থিক গ্রাহককে সেবা দিয়েছে। এই তালিকায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বাজারে ডিজিটাল আর্থিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিওনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং কাজাখস্তানে সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক ও বাণিজ্যিক সাফল্যের সঙ্গে এ
অগ্রগতি যুক্ত হবে।
ভিওন সম্পর্কে:
১৫ কোটির বেশি গ্রাহককে কানেক্টিভিটি সেবা ও প্রায় ১২ কোটি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীদের সেবা প্রদান করছে ডিজিটাল অপারেটর ভিওন। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশেরও বেশি বসবাস করে এমন পাঁচটি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে ভিওন। প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদান করে মানুষের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার রূপান্তরে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। নাসডাকে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ভিওন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে ভিজিট করুন: www.veon.com
স্কয়ার গ্রুপ সম্পর্কে:
স্কয়ার গ্রুপ বাংলাদেশের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী, যা ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওষুধ কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, বস্ত্র, খাদ্য, প্রসাধনী ও তথ্যপ্রযুক্তি। ব্যবসা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় গ্রুপটি এখন একটি বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে কয়েক হাজারের বেশী কর্মী কাজ করছেন।
বাংলালিংক সম্পর্কে:
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক দেশের মানুষের ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ‘ডিজিটাল ফর অল’ লক্ষ্য নিয়ে গ্রাহকদের জন্য বিস্তৃত পরিসরে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলালিংকের সেবার পোর্টফোলিওতে রয়েছে: টেলকো-অ্যাগনোস্টিক সুপার অ্যাপ মাইবিএল, বিনোদন প্ল্যাটফর্ম টফি ও দেশের প্রথম এআই-নির্ভর ডিজিটাল লাইফস্টাইল প্যাকেজ রাইজ। নাসডাকের তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওন লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ আগামী নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
