বাংলাদেশ বিকাশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশের বৃহত্তম মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান বিকাশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তঃলেনদেন (ইন্টারঅপারেবিলিটি) কার্যক্রমে ইচ্ছাকৃত গড়িমসির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সময়মতো ‘আউটগোয়িং’ সেবা চালু না করলে প্রতিষ্ঠানটির দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা ‘ইনকামিং’ (অন্য এমএফএস থেকে টাকা গ্রহণ) এবং ‘অ্যাড মানি’ (ব্যাংক থেকে টাকা আনা) স্থগিত করে দেওয়া হবে।
গত ১ নভেম্বর থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তঃলেনদেন বা ইন্টারঅপারেবিলিটি সেবা চালু হয়, যেখানে সব এমএফএস, ব্যাংক ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) অংশ নিচ্ছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ দেখিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে এই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়নি বিকাশ। তারা সিস্টেম আপগ্রেডের অজুহাতে তিন মাস সময় চেয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিকাশের এই ব্যাখ্যাকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ সূত্র বলছে, বিকাশের প্রকৃত উদ্বেগ নিরাপত্তা নয়, বরং বাজারে তাদের একচেটিয়া অবস্থান হারানোর আশঙ্কা। কারণ, আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থায় এক এমএফএস থেকে অন্যটিতে টাকা পাঠাতে গ্রাহককে প্রতি হাজারে মাত্র ৮ টাকা ৫০ পয়সা (০.৮৫%) খরচ দিতে হবে— যা বিকাশের বর্তমান ক্যাশআউট চার্জের (প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা বা ১.৮৫%) তুলনায় অনেক কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, বিকাশ যদি শুধুমাত্র টাকা গ্রহণ (ইনকামিং) সুবিধা চালু রেখে প্রেরণ (আউটগোয়িং) বন্ধ রাখে, তবে সেটি হবে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা’। তাই গ্রাহক সুরক্ষা ও খাতের ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিকাশকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে।
যদি এই নির্দেশ কার্যকর হয়, তবে কোটি কোটি বিকাশ ব্যবহারকারী ব্যাংক থেকে টাকা যোগ করার (‘অ্যাড মানি’) সুবিধা হারাতে পারেন এবং রকেট, এমক্যাশসহ অন্যান্য এমএফএস থেকে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন না।
অন্যদিকে বিকাশের দাবি, তারা গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নতুন সিস্টেমের প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা যাচাইয়ের জন্য সময় নিচ্ছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, পাইলট প্রজেক্টে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি না পাওয়া যাওয়ায় বিকাশের এই ব্যাখ্যা মূলত তাদের বাজার আধিপত্য টিকিয়ে রাখার কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।
