শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
অর্থনীতি

সুইস ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন বাংলাদেশিরা

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা আমানতের পরিমাণ ২০২৩ সাল শেষে নেমে এসেছে ১ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার সুইস ফ্রাঁয়। দেশটির ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের জমা আমানত ২০২২ সালের তুলনায় কমেছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) গতকাল প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধনাঢ্য বাংলাদেশী ও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের মালিকদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডসহ পশ্চিমা দেশগুলোয় পাচারকৃত অর্থ সরিয়ে আনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর পরিবর্তে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা পূর্ব ইউরোপের মতো দেশগুলোয় অর্থের নিরাপদ গন্তব্যের সন্ধান করছেন তারা।

এসএনবির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমাকৃত আমানতের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ ১১ হাজার সুইস ফ্রাঁ। এর আগে ২০২১ সালে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার সুইস ফ্রাঁ। সে অনুযায়ী ২০২২ সালে দেশটিতে বাংলাদেশীদের জমাকৃত অর্থ আগের বছরের তুলনায় কমেছিল প্রায় ৯৪ শতাংশ। এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমানতের পরিমাণ কমেছে ২০২৩ সালেও।

প্রতিবেদনে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, যদি কোনো বাংলাদেশী তার নাগরিকত্ব গোপন করে এখানকার ব্যাংকগুলোয় অর্থ জমা রেখে থাকেন, তবে তা এ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে আমানতের তথ্য প্রকাশ করা হলেও সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের গচ্ছিত রাখা স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমান প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া আমানতকারীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বেশি আমানত ছিল সুইস ব্যাংকে। ২০০২ সালে আমানত ছিল মাত্র ৩ কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ। দুই দশকের মধ্যে তা প্রায় ৩০ গুণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল ২০২১ সালে।

জানা যায়, সুইস ব্যাংক থেকে শুধু বাংলাদেশী না, ভারতীয় ও পাকিস্তানি আমানতকারীরাও তাদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। ২০২০ সাল শেষে দেশটির ব্যাংকগুলোয় ভারতীয়দের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ২৫৫ কোটি ২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২১ সালে তা ৫০ শতাংশ বেড়ে ৩৮২ কোটি ৮৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়। ২০২২ সালে জমা করা অর্থের পরিমাণ ২০১৯ সালে ছিল ৩৪০ কোটি ২ লাখ ৬১ হাজার সুইস ফ্রাঁ। আর গত বছর শেষে তা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমে নেমে আসে ১০২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার সুইস ফ্রাঁয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *