বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
অনুসন্ধানী রিপোর্ট

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের একমাত্র শেয়ারধারী পরিচালকের পদত্যাগ

পুঁজিবাজার প্রেস.কম :সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) পরিচালনা বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্যাংকের একমাত্র শেয়ারধারী পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. রেজাউল হক। রোববার (১২ অক্টোবর) তিনি চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ব্যাংকগুলোর একীভূত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
২০১৭ সালে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পুরোনো পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্ত করে। পরে সাবেক চেয়ারম্যান মো. রেজাউল হক ও চার স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম সাদিকুল ইসলাম নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে এক বছর পার হলেও ব্যাংকটি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি।বোর্ডের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ব্যাংকটিকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগিরই ব্যাংকের বর্তমান বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে রেজাউল হক লেখেন, “স্বতন্ত্র পরিচালকেরা ব্যাংকের সঙ্গে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো স্বার্থে জড়িত নন। অথচ তাঁদের নিয়েই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ কারণে এক বছরেরও বেশি সময়েও ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারধারীদের হাতে দায়িত্ব দিলে পরিস্থিতি অনেক ভালো হতে পারত।”
Space for ads
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “স্বতন্ত্র পরিচালকেরা শুধু নিয়মিত অফিস করা ও বেতন নেওয়া ছাড়া ব্যাংকের উন্নয়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজিত একীভূত শুনানিতেও তাঁরা আমাকে না জানিয়ে অংশ নেন, যদিও তাঁদের সেই শুনানিতে অংশ নেওয়ার কোনো এখতিয়ার ছিল না।”
রেজাউল হক বলেন, ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর সময়ে ২০১৬ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, “২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর আমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, যা ব্যাংকটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।”
রেজাউল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আশা করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের বোর্ড বাতিল করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেবে। “কিন্তু পরিবর্তে স্বতন্ত্র পরিচালকদের সমন্বয়ে অকার্যকর বোর্ড গঠন করা হয়,” মন্তব্য করেন তিনি।
মো. রেজাউল হক বলেন, “স্বতন্ত্র পরিচালকেরা ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আমি পদত্যাগ করেছি। এখন তাঁরা কোরাম পূর্ণ করতে পারবেন না, ফলে আর বোর্ডের সভাও করা সম্ভব হবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *