বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
আজকের সংবাদ

গভর্নরকে ডিবিএর ৮ প্রস্তাব

দেশের শেয়ারবাজার, ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান–এর সঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)–এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাত সংস্কারে গভর্নরের কাছে ৮ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে ডিবিএ।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম–এর নেতৃত্বে সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন।
ডিবিএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে দেশের বর্তমান শেয়ারবাজার পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ডিবিএ’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি সমন্বিত ৮ দফা নীতিগত প্রস্তাবনা দাখিল করা হয়। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের বাজারভিত্তিক পুনর্গঠন :
করদাতার অর্থ ব্যবহার করে বারবার ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয় উল্লেখ করে বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ, একীভূতকরণ ও বেসরকারি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেয় ডিবিএ।
২. বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা :
বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমাতে বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
৩. সরকারি সিকিউরিটিজে নন-কম্পিটিটিভ বিড বৃদ্ধি :
সাধারণ বিনিয়োগকারী, ব্রোকার ও নন-পিডি ব্যাংকের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে বাজারে তারল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
৪. আয়কর আইন ও মূলধন সংরক্ষণ নীতির অসামঞ্জস্য দূরীকরণ :
রিটেইনড আর্নিংস ও স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন শক্তিশালীকরণে বাধা সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
৫. বন্ড খেলাপি তথ্য সিআইবিতে অন্তর্ভুক্তি :
বন্ড খেলাপিদের তথ্য সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মত দেয় ডিবিএ।
৬. শেয়ারবাজারে টি+১ সেটেলমেন্ট চালু :
টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে লেনদেনের ঝুঁকি কমবে এবং বিনিয়োগকারীদের দ্রুত পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
৭. সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম (বিইউপিআই) চালু :
দেশীয় সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু হলে আন্তর্জাতিক গেটওয়ের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং লেনদেন ব্যয় হ্রাস পাবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়।
৮. ওপেন-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বৃদ্ধি :
ওপেন-এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বাড়ানো হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ও তারল্য বাড়বে বলে ডিবিএ মত দেয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডিবিএ’র প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম দেশের আর্থিক খাত ও শেয়ারবাজার সংস্কারে ইতিবাচক নেতৃত্ব এবং গৃহীত উদ্যোগের জন্য গভর্নরকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও শেয়ারবাজারের উন্নয়ন, সংস্কার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *