ছয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের জন্য অর্থ ছাড় দিবে’ অর্থ মন্ত্রণালয়’
ঢাকা: চলতি বছরের জুলাইয়ে ছয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ছয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা চলতি বছরের জুলাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অর্থ বিভাগ দুই ধাপে অর্থ পরিশোধ করবে। প্রথম ধাপে ২,৬০০ কোটি টাকা এবং জুনের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ৩,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপের অর্থ পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। তাদের প্রধান কাজ হবে ব্যক্তি খাতের আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করা। এরপর আদালতের কাছে প্রতিষ্ঠানগুলো লিকুইডেশনের জন্য আবেদন করা হবে।
গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একই বৈঠকে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। অবসায়নের তালিকায় থাকা ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো: ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।
সাথে সময় পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো: বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
বর্তমানে দেশে ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ২০টিকেই সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ২০ কোম্পানির মোট ঋণের পরিমাণ ২৫,৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১,৪৬২ কোটি টাকাই খেলাপি, যা মোট ঋণের ৮৩.১৬ শতাংশ। বিপরীতে বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬,৮৯৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭.৩১ শতাংশ, এবং গত বছর এ প্রতিষ্ঠানগুলো ১,৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
তাদের মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬,১৮৯ কোটি টাকা। সমস্যাগ্রস্ত ২০ প্রতিষ্ঠানে আমানত রয়েছে ২২,১২৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে গ্রাহকদের নিট ব্যক্তি আমানত প্রায় ৪,৯৭১ কোটি টাকা। অবসায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে এই অর্থের জোগান প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
