বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে চাপ, বিপাকে ৬০ কোম্পানি

পুঁজিবাজার প্রেস.কম :বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিশ্চিত করতে গিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্তত ৬০টি কোম্পানি চাপে পড়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রেকিট বেনকিজার, বাটা সু ও লিন্ডে বাংলাদেশ, এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার।
সম্প্রতি বিএসইসি কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে তাদের পরিশোধিত মূলধন কীভাবে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে একটি রোডম্যাপ জমা দিতে বলেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বল্প মূলধনের কোম্পানির শেয়ারে সহজেই কারসাজি করা সম্ভব হয়। এ ধরনের অনিয়ম রোধে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে কোম্পানিগুলোর মতে, ব্যবসার বর্তমান প্রতিকূল পরিবেশে এই বাধ্যবাধকতা অযৌক্তিক। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)-এর কাছে হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে।
রেকিট বেনকিজার ও লিন্ডে বাংলাদেশ-এর মতো লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তাদের নগদ প্রবাহ এবং লভ্যাংশ পরিশোধ সক্ষমতা যথেষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে লিন্ডে বাংলাদেশ ৪,৫০০ শতাংশ এবং রেকিট বেনকিজার ৩,৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএপিএলসি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য কাইসার হামিদ বলেন, “যেসব কোম্পানি ইতোমধ্যে স্থিতিশীল আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে, তাদের ওপর পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর চাপ অপ্রয়োজনীয়। এটা এক ধরনের ‘এক মাপে সবার জন্য’ সমাধান, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
তিনি আরও বলেন, “মূলধন বাড়ালেই শেয়ার কারসাজি বন্ধ হবে—এমন ধারণা ভুল। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত কার্যকর তদারকি ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা।”
দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা কোম্পানিগুলো—যেমন আজিজ পাইপস, জুট স্পিনার্স ও মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ—মূলধন বাড়ানোর নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। আজিজ পাইপসের পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৫.৩৪ কোটি টাকা, এবং প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর লোকসানে ছিল।
প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং বিনিয়োগের নিম্নমুখী প্রবণতা বিবেচনায় ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ নেই। ফলে অতিরিক্ত মূলধনের কার্যকর ব্যবহারও অনিশ্চিত।
বিএসইসি চিঠিতে সতর্ক করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে মূল বোর্ড থেকে এসএমই (SME) বোর্ড বা অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (ATB) স্থানান্তর করা হতে পারে।
এ বিষয়ে কাইসার হামিদ বলেন, “ভালো কোম্পানিগুলোকে মূল বোর্ডে থাকতে উৎসাহিত করা উচিত। SME বা ATB-তে স্থানান্তর হলে তা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন হবে।”
বিএসইসি যে প্রবিধান ৯(১) উল্লেখ করে কোম্পানিগুলোকে মূলধন বাড়াতে বলছে, তা মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য প্রযোজ্য বলে মনে করে অনেক কোম্পানি। তাদের দাবি, এই বিধান বেসরকারি তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, ফলে নির্দেশনাটিও বিতর্কিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *