বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২৬
জাতীয়

ভারত থেকে সরকার-টু-সরকার আমদানি করা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ।

ভারত থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় আমদানি করা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান মানগত আপত্তির কারণে গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ। এরই মধ্যে চালের একটি অংশ খালাস হলেও বাকি চাল ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চালবাহী জাহাজটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ২২ জুলাই চালের নমুনা পরীক্ষা করে তা মানবদেহের জন্য নিরাপদ বা খাওয়ার উপযোগী বলে সনদ দেওয়া হয়। এরপর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।
২৩ ও ২৪ জুলাই প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করে ঢাকার তেজগাঁও, হালিশহর ও দেওয়ানহাট কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগার (সিএসডি) এবং জয়দেবপুরের একটি গুদামে পাঠানো হয়।
তবে ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহর সিএসডির কর্মকর্তারা চালের মান নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, চালের গুণগত মান সন্তোষজনক নয় এবং এটি মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। পরে বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এরপর বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমভি এইচটি পাইওনিয়ার জাহাজে থাকা অবশিষ্ট প্রায় ৮ হাজার টন চাল ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ব্যবসায়ী মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি করছেন। তার দাবি, চালের মান নিয়ে আপত্তির পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে তারা রাজি হননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকার-টু-সরকার চাল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মজুত থেকে চাল সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল।
ভারতীয় এক ব্যবসায়ীর দাবি, খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক বিরোধের কারণেও এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *