শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

১২ বছরের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর সর্বোচ্চগতিতে চলছে লেনদেন

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ফ্লোর প্রাইসের নিচে লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার মাত্র এক মাসে ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে দামে পৌঁছেছে।২০২৩ সালের মে মাস চলতি বছরের ০৬ আগস্ট পর্যন্ত থেকে শেয়ারটি ৩২ টাকা ৬০ পয়সায় ফ্লোর প্রাইসে বন্দী ছিল।

ইসলামী ব্যাংক রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে। এদিন কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ৯.৯২ শতাংশ দাম বেড়ে বিক্রেতাশুন্য ছিল। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার ৫৪ টাকা ৩০ পয়সায় ক্লোজিং হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪১ লাখ ১০ হাজার শেয়ার। যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপ থেকে মুক্ত হওয়ার পর ব্যাংকটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংকটির পর্ষদ থেকে এস আলম গ্রুপের মনোনীত পরিচালকদের অপসারণ করে নতুন বোর্ড গঠন করেছে।

এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে পরিচালক হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক গ্রুপ শেয়ার কিনছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাই ব্যাংকটির শেয়ারের ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপ থাকা সত্ত্বেও এর শেয়ারের দাম বেড়েছে বলেও জানান তারা।

২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই সময় ব্যাংকটির পর্ষদ সদস্য ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এরপর মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশ ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি দখল করে বেনামি ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকটি কর্মকর্তারা বলছন, এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি থেকে নামে বেনামে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, সিআইডি ও দুদক এস আলম গ্রুপ ও এর চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্ত করছে।

সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গত ২৭ আগস্ট প্রথম বৈঠকে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন সাড়ে সাত বছরে ব্যাংক থেকে নেওয়া সব ঋণ পুনঃনিরীক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। .

বৈঠকে উপস্থিত ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে কারা ঋণ নিয়েছে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং এই ঋণগুলির যথাযথ জামানত আছে কিনা তা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক আগস্ট মাসে এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড ভেঙ্গে দেয় এবং ব্যাংকের কার্যক্রম তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি নতুন বোর্ড গঠন করে।

সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক উভয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *