সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
আজকের সংবাদ

অর্থনৈতিক উন্নয়নের নেতৃত্ব আপাতত সরকারকেই দিতে হবে ‘আবু আহমেদ

আবু আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান। অধ্যাপক আবু আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন। তিনি সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের (বর্তমানে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। নতুন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার অনেকগুলো লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে অনেকগুলো কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হবে। সরকারের এসব লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন?
স্বপ্নটা ঠিক আছে। তবে শুধু আশাবাদ ব্যক্ত করলে হবে না। যেমন অর্থমন্ত্রী ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের’ কথা বলেছেন। অর্থনীতিক অর্থনীতির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। সেটি ৬ শতাংশের চেয়ে কম। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে তার দিকনির্দেশনা বাজেটে খুব বেশি চোখে পড়েনি। কিন্তু এ কাজটা অবশ্যই করতে হবে। সরকারি খাত অবশ্যই পরিচালনায় থাকবে। সমস্যা হলো রাজস্ব আয়ের ৭২ শতাংশই খরচ হয় পরিচালন ব্যয়ে। অর্থমন্ত্রী নতুন অর্থবছরে এ ব্যয় কমিয়ে ৬৪ শতাংশে নিয়ে আসার কথা বলেছেন। এমনটি করতে পারলে ভালো। কারণ সরকারের আকার বিবেচনায় গোটা ব্যবস্থাটিকে ফিডিং করার জন্য যে রাজস্ব দরকার তার পরিমাণ অনেক বেশি। এজন্যই আমরা উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ পাই না। গত ১০ বছরে সরকারের পরিচালন ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে ওই অনুপাতে উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ বাড়েনি। আমরা সরকারের আকার বাড়িয়েছি। এত বড় সরকার কাঠামো, এতগুলো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর কিংবা নির্দেশক আমাদের প্রয়োজন নেই। এ দীর্ঘ সময়ে আমরা অনেক স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ করেছি। সেখানেও খরচ বেড়েছে। এর খেসারত এখন দিতে হচ্ছে। কারণ এত বড় একটি কাঠামোর খরচ মেটানোর জন্য রাজস্বের ওপর নির্ভর করতে হবে। এখন সাধারণ মানুষ এত কর কোথা থেকে দেবে? এনবিআর তো সবখানেই কর বসাচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হলে কর আদায়ও কম হবে। কারণ অর্থনীতিকে বড় হওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। সুদের হার বেশি, বিনিয়োগ বলতে কিছুই নেই এবং নতুন কর্মসংস্থানও ওইভাবে তৈরি হচ্ছে না। এখন এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ের একটি বড় লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। তারা লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ডানে-বামে সবখানেই কর বসাচ্ছে।
পুঁজিবাজারের কথাই ধরা যাক। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, পুঁজি সংগ্রহের প্রধান মাধ্যম পুঁজিবাজার। সেখানে কী করা হলো? আগে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াত মিলত। আগে ১০ লাখ টাকার ওপর হলেও এবারের প্রস্তাবনায় তা সাড়ে ৭ লাখ করা হয়েছে। এছাড়া শেয়ারবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিভিডেন্ড ইনকাম অর্থাৎ বিনিয়োগের ওপর যে আয় হয় ওপর ২০ শতাংশ কর ধার্য ছিল, এখন বাড়ানো হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো ধরনের কর ছাড় দেয়া হয়নি। আমাদের প্রস্তাবনা ছিল, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট ইনকাম ট্যাক্স ১০ শতাংশ কম হোক। এ বিষয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *