মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
আজকের সংবাদ

আর্থিক অপরাধ রোধে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ফাইন্যান্সিয়াল
ক্রাইম অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (এফসিসি) সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের আওতায় এ পর্যন্ত চারটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ
কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হয়েছে। আরও একটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলছে। দেশের আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ সক্ষমতা
বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু করা এই কর্মসূচির সাফল্য উদযাপন করতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ও ব্র্যাক
বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী এবং
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্ট
ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর প্রধান মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (এফসিসি) সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করার প্রেক্ষাপট তুলে
ধরেন বক্তারা। তারা বলেন, এ কর্মসূচিটি শুরুর আগে সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, দেশের ব্যাংক খাতে
আর্থিক অপরাধ রোধ ও কমপ্লায়েন্স পরিপালনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিনিয়িত বাড়ছে। এজন্য প্রায় ২৫০ জন আর্থিক
অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ে প্রশিক্ষিত জনশক্তি প্রয়োজন। কিন্তু রয়েছেন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন। দেশের আর্থিক
প্রতিষ্ঠানে ঋণ ঝুঁকি দীর্ঘদিনের পরিচিত হলেও আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে নতুন, জটিল ও দ্রুত
বিস্তৃত হওয়ায় বিশেষায়িত দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
যৌথভাবে এফসিসি সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শিল্প অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সাজানো এই
কোর্সটি আর্থিক অপরাধের ক্রমবর্ধমান জটিলতা মোকাবিলায় দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
২০২৪ সালের শুরুতে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (এফসিসি) সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামটি যাত্রা শুরু
করে। ইতোমধ্যে চারটি ব্যাচ সফলভাবে কোর্সটি সম্পন্ন করেছে। এতে মোট ১৭৭ জন অংশগ্রহণকারী সনদ অর্জন
করেছেন এবং ৫ম ব্যাচে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৫ জন। এটি এখন দেশের আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা
উন্নয়নের একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য এই প্রোগ্রামটি ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও
পেশাগত বিকাশের নতুন সুযোগও তৈরি করেছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের কোনো কর্মসূচি হাতে নেওয়া
হয়েছে। প্রশিক্ষণে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ, জালিয়াতি শনাক্তকরণ, নৈতিকতা ও কমপ্লায়েন্স
নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অংশীগ্রহণকারীরা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ,
বিএফআইউ ও ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মেন্টরশিপ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয় বলেন, “এই কর্মসূচিটি একাডেমিয়া ও
ইন্ডাস্ট্রির সফল সমন্বয়ের একটি দারুণ উদাহরণ। ২০২৪ সালে আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স
সংক্রান্ত কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তারের সময়ে এই বিষয়ে দক্ষ জনশক্তির অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্র্যাক
বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা চারটি ব্যাচকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং পঞ্চম ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলছে।
প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগকে সফল করে
তোলার জন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বিএফআইইউ এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক বাংলাদেশে আর্থিক অপরাধের গুরুতর সমস্যার বিষয়টি
তুলে ধরেন। এফসিসি সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামে অবদান রাখায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, বিএফআইইউ ইউনিট এবং
ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি অপরাধ প্রতিরোধ ও কমপ্লায়েন্স
নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিষ্ঠার সঙ্গে কোর্সটিতে অংশগ্রহণ করায় প্রশিক্ষণার্থীদের ধন্যবাদ জানান।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আরশাদ চৌধুরী এবং কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলামও অনুষ্ঠানে
বক্তব্য দেন। তারা বলেন, দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা কাজ চালিয়ে যাবেন। এ ছাড়া কার্যকর গবেষণা ও
দেশের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আর্থিক অপরাধ এখনও বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবস্থায় নাজুক অবস্থা তৈরি করছে, যা শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা
ও দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো পেশাজীবীদের এমন জ্ঞান ও
দক্ষতা দেওয়া, যার মাধ্যমে তারা অবৈধ কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে পারবেন। এর ফলে দেশের আর্থিক
ব্যবস্থা তথা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সরাসরি অবদান রাখছে।
দেশের উন্নয়ন যাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড গত ১২০ বছর ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ব্যাংকটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় লিবারেল আর্টস ভিত্তিক শিক্ষাদর্শনে পরিচালিত হয়ে শিক্ষার্থীদের
আধুনিক পেশাজীবনের চাহিদা পূরণে কাজ করছে। উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি
দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *