কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএসইসিরই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
দেশের শেয়ারবাজারে বিগত সময়ের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির ঘটনা খতিয়ে দেখতে গত ২ সেপ্টম্বর পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যে কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএসইসিরই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যারা কমিটির বিতর্কিত সদস্য ও অবৈধভাবে বেশি করে সম্মানি নেওয়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে। যা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সম্প্রতি তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাঁপ দেওয়া শুরু করেছেন।
গত ০৬ মার্চ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ মিরাজ উস সুন্নাহ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তদন্ত কমিটির অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
এতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে দাবি করা হয়, বিতর্কিত লোক, যাদের বিরুদ্ধে কমিশন পূর্বে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং এখনো Enforcement প্রক্রিয়া চলমান, তাদেরকে দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পুঁজিবাজার তদন্তের নামে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া বিধিতে/সরকারি নিয়মানুযায়ী কমিটির সদস্যদের প্রতি সভার সম্মানি-ভাতা বাবদ ৩০০০-৫০০০ টাকা প্রদানের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে প্রতিমাসে মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে কমিটির বহিরাগত প্রতি সদস্যকে ২ লক্ষ টাকা প্রদান করছে মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন। যা সম্পূর্ণরুপে পুঁজিবাজার স্বার্থ বিরোধী এবং বে-আইনী।
এর আগে গত ৫ মার্চ সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনেও তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির মাহবুবুল আলম বলেন, বিএসইসির এই তদন্ত কমিটি বিতর্কিত। এই বিতর্কিত বলার পেছনে কারন হিসেবে রয়েছে, তদন্ত কমিটির ২ জন বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের। তারা বিএসইসি থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একারনে এখানে একটা স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) থেকে যায়।
এছাড়া তাদের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেন মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্টে অনেকটা বিএসইসির কর্মকর্তারা ‘একটিভ ভয়েসের পরিবর্তে প্যাসিভ ভয়েসে’ কেনো লিখেছে, এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যেটাকে অসদাচরন এবং দায়িত্বে চরম অবহেলা বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে এই জাতীয় সমস্যায় তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই তদন্ত কমিটি অ্যাক্ট অ্যান্ড অর্ডিনেন্সের অধীনে গঠিত হয়েছে। এই অধীনে গঠিত হওয়া মানে সুনির্দিষ্ট কোন অনিয়ম পেলে, তা তুলে ধরবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ কাজটি করে আসছি। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা এই তদন্ত কমিটির কাজ না। অ্যাক্ট অ্যান্ড অর্ডিনেন্সের অধীনে তদন্ত করে চাকরি বিধিমালায় শোকজ করা যায় না।
বিএসইসির কর্মকর্তাদের তদন্ত কমিটি নিয়ে দেওয়া এসব বক্তব্য প্রত্যাহারে চাঁপ দিচ্ছে ওই তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ নিয়ে বিএসইসির এক কর্মকর্তা অর্থ বাণিজ্যকে বলেন, তদন্ত কমিটি নিয়ে যেসব বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে, তা শতভাগ সঠিক। তারপরেও বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের প্রশ্রয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য বিএসইসির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে চাঁপ দিচ্ছেন
