ডলার বুকিংয়ের বিষয়ে সংশোধন আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে দুই দিনের মধ্যে ডলার বুকিং নিয়মে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে শুধু আমদানিকারকরাই অগ্রিম ডলার বুকিং করতে পারবে। সর্বোচ্চ বুকিং মেয়াদ হবে তিন মাস। আগের নির্দেশিকায় এই সীমা ছিল সর্বোচ্চ ‘এক বছর’।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের সংশোধিত সার্কুলার থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক বছরের জন্য ডলার বুকিং নিয়ম চালু করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলারের সর্বোচ্চ ফরোয়ার্ড রেটও নির্ধারিত রয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। এমতাবস্থায় সার্কুলার জারির দুদিন পর সংশোধনীসহ সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক ভবিষ্যতের জন্য ডলার বুকিং সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে। ডলার অগ্রিম নেওয়ার ক্ষেত্রে এক বছর পর সর্বোচ্চ দাম কত হবে তারও একটি ক্যাপ রয়েছে। নতুন নিয়মে এক বছর পর বর্তমান স্মার্ট রেট থেকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বেশি চার্জ নিতে পারবে ব্যাংক।
এদিকে অগ্রিম ডলার বুকিং নির্দেশিকাও জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ডলার ব্যবহারকারীরা বলছেন, ভবিষ্যতে ডলার সংকট আরও বাড়বে। এজন্য আগে থেকে ডলার বুকিং দিতে বলা হয়। কেউ কেউ দাবি করছেন, এক বছর পর ডলারের দর ১২৩ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
রেমিট্যান্স-রপ্তানি ডলারের হার
রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় এখন থেকে ডলারের সাথে যুক্ত করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রপ্তানিকারকরা পাচ্ছেন প্রতি ডলার ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। আগে ছিল ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে ডলারের মূল্য ৫০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। এ ছাড়া আমদানির জন্য ডলারের রেট হবে ১১০ টাকা। আগে যা ছিল ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক ব্যবস্থায় ডলার লেনদেন হচ্ছে ১১০ টাকা ৫০ পয়সায়।
তবে, কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে নগদে এক ডলার কিনতে গ্রাহকদের ১১৭ টাকা থেকে ১১৮ টাকা গুণ করতে হবে। যারা চিকিৎসা, শিক্ষা বা ভ্রমণের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের নগদে কেনা প্রতি ডলারের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় সর্বোচ্চ ১১৮ টাকা খরচ করতে হবে।
