সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
আজকের সংবাদ

ডিএসইর অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনে বাধা কাটাল বিএসইসি

পুঁজিবাজার প্রেস প্রতিবেদক :  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাংগঠনিক কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের জন্য ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সংশোধনের জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ পাবে ডিএসই।

 

 

ডিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি বিএসইসির আইন বিভাগে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে কমিশনের মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স বিভাগকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

 

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম থেকে প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্কিম থেকে অর্গানোগ্রাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিএসইসি। ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে ডিএসইর বৈঠক হয়েছে। স্কিমটি পাঁচ বছর পর পর্যালোচনার বিধান ছিল। কিন্তু কোনো কারণে তা করা হয়নি। অন্যান্য দেশের ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

ডিএসইর যুক্তি, অর্গানোগ্রাম মূলত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো। ব্যবসার ধরন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অর্গানোগ্রাম ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের অংশ হওয়ায় তা পরিবর্তনে অতিরিক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়।

 

গত ১৫ মার্চ ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রথম কমিশনকে চিঠি দেন। পরে ওই আবেদনের ধারাবাহিকতায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।

 

 

ডিএসইর মতে, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের মূল উদ্দেশ্য হলো স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও লেনদেনের অধিকার পৃথক করা। এর মাধ্যমে মালিকানা ও পরিচালনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়। বিস্তারিত প্রশাসনিক কাঠামো এ স্কিমের মৌলিক বিষয় নয়। তাই অর্গানোগ্রাম পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ নীতিমালার আওতায় রাখা বেশি যৌক্তিক।

 

একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ডিএসই মনে করে, কোম্পানি আইন ও করপোরেট সুশাসন নীতিমালা অনুযায়ী অর্গানোগ্রাম অনুমোদন, সংশোধন ও হালনাগাদ করার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদের থাকা উচিত। তবে এ ক্ষেত্রে বিএসইসির নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত মেনে চলতে হবে।

 

ডিএসইর আবেদনে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের ৯.২.৩ ধারার কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই ধারায় এক্সচেঞ্জের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে সর্বোত্তম সাংগঠনিক কাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টি রয়েছে। ডিএসইর মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে অর্গানোগ্রামকে স্থির কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবর্তনের সুযোগ থাকা দরকার।

 

এ ছাড়া দেশের অন্য স্টক এক্সচেঞ্জ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমে অর্গানোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত না থাকার বিষয়টিও যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে ডিএসই। সংস্থাটির প্রত্যাশা, স্কিম থেকে অর্গানোগ্রাম বাদ দেওয়া হলে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সাংগঠনিক পরিবর্তন আনা এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো সহজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *