বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
কোম্পানি সংবাদ

ঢাকা ইপিজেডে ইউনাইটেড পাওয়ারের গ্যাস–সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ঢাকা ইপিজেডে অবস্থিত ইউনাইটেড গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। বড় অংকের গ্যাস বিল দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকায় তিতাস কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ইউপিজিডিসি) এর আওতায় ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত।

ঢাকা ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানগুলো ইউপিজিডিসির উৎপাদিত বিদ্যুতের ক্রেতা। সোমবার দুপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইপিজেডটির সকল কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। উপায় না দেখে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে।

এদিকে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া গ্যাস বিলের পরিমাণ ৪৭৮ কোটি টাকা। বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বারবার তাগাদা দিলেও তা আমলে নেয়নি ইউনাইটেড গ্রুপ।

তিতাস গ্যাস সূত্র জানিয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপ ২০২২ সালের দিকে বকেয়া কিস্তিতে পরিশোধ করার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিল। কোর্ট বকেয়া টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করার জন্য আদেশও দিয়েছিল। কিন্তু তারপরও তারা কোনো টাকা পরিশোধ করেনি।

জানা গেছে, ঢাকা ইপিজেড এলাকায় ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যেহেতু সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে না, তাই ক্যাপটিভ বিবেচনায় গ্যাসের দাম ঘনমিটারপ্রতি ৩১.৫০ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। এ সময়ে আইপিপির (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) জন্য গ্যাসের দর ছিল ১৬ টাকা। ইউনাইটেড গ্রুপ কেন্দ্রের জন্য আইপিপি রেটে গ্যাস পেতে সরকারের কাছে আবেদন করে। কিন্তু রেগুলেটরি কমিশন সেই দাবি নাকচ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে গেলেও আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেন। এরপর সুপ্রিমকোর্টে গিয়েও হেরেছে ইউনাইটেড। একপর্যায়ে সব আইনকানুন উপেক্ষা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে তাদের সেই চাওয়া পূরণ হয়।

যদিও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে ওই পদ্ধতি বাতিল করে দিয়েছে।

গত ৭ মার্চ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপকে ক্যাপটিভ রেটেই গ্যাসের দাম দিতে হবে। এরপরই বকেয়া আদায়ে তৎপর হয়ে ওঠে তিতাস গ্যাস। দফায় দফায় যোগাযোগ করলেও ইউনাইটেড গ্রুপ সাড়া না দেওয়ায় অবশেষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

আভিযোগ আছে, ইউনাইটেড গ্রুপ পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীদের অন্যতম। বিদ্যুৎ বাণিজ্যে সামিট গ্রুপের পরেই ছিল ইউনাইটেড গ্রুপের অবস্থান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *