বিআইপিডির কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না ফারইস্ট ফাইন্যান্স
বিআইপিডি কোনোভাবে জড়িত নয় এবং আদালতের আদেশে বিআইপিডির হিসাব স্থগিত করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরিষ্কার করে বলা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এদিকে আমানতের অর্থ না পেয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দেয় বিআইপিডি। ২০২২ সালের ২৩ মার্চ বিএসইসি এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে। যেখানে ফারইস্ট ফাইন্যান্সকে অভিযোগকৃত বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিএসইসির আদেশ অমান্য করে ফারইস্ট ফাইন্যান্স এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন সমাধানে পৌঁছায়নি।
এদিকে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯০ শতাংশ ঋণ খেলাপি থাকা স্বত্ত্বেও কেন সেখানে আমানত রাখা হয় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিআইপিডির পরিচালক কাজী মো. মোরতুজা আলী বলেন, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ২০১৬ সালে আমানত রাখা শুরু করে বিআইপিডি। তখন কোম্পানিটিতে সুদের হার বেশি ছিলো, আবার বিআইপিডির কিছু পরিচালকদের সেখানে স্টেক ছিলো। ফলে সবার সম্মতিক্রমে সেখানে ছয় হিসাবের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা হয়।
বিআইপিডির পরিচালকদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের প্রশ্নে বিআইপিডির পরিচালক বলেন, কোন ব্যক্তির নাম বা কারো সংশ্লিষ্টতার কারণে বিআইপিডির আমানত হিসাব স্থগিত করা হয়নি। ফারইস্ট ফাইন্যান্স বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন কোন নির্দেশনাও আসেনি। ব্যক্তিগত হিসাব স্থগিত করা হলেও সেখানে বিআইপিডির কথা উল্লেখ ছিলো না। তবে আইনি জটিলতা এবং ভয়ভীতির কারণে এসব ব্যক্তির নাম সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেনি বিআইপিডি।
এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরেও বেসরকারি কোম্পানিতে আমানত রাখার বিষয়টি ভুল অভিহিত করে মোরতুজা আলী জানান, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে আমানতের অর্থ আটকে যাওয়ার পর বিআইপিডি সেখানে আর কোন টাকা জমা রাখেনি। এমনকি কোন লিজিং কোম্পানিতেও টাকা রাখবে না বলে কোম্পানিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ আমানত রাখছে।
পুঁজিবাজারে বর্তমানে দুর্বল ক্যাটাগরির কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ঋণের বোঝা বেড়েই চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের মার্চ শেষে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রয়েছে ৮৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মোট ঋণের ৯৪ শতাংশই খেলাপি।
এছাড়া, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা, যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল প্রায় ৪৮ কোটি টাকা। এ সময় কোম্পানিটির প্রতি শেয়ারের বিপরীতে দায় দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ২০ পয়সা।
