মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
আজকের সংবাদ

বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে কমোডিটি বাজার চালু করছে সিএসই

পুঁজিবাজার প্রেস প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

নতুন বাজার চালুর আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মার্কেট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে।

সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) মোহাম্মদ মাহাদি হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

 

 

 

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে সিএসই কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পরিদর্শন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ মাহাদি হাসান বলেন, কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ওপর। এ কারণে নতুন বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ ধারণা ও জ্ঞান থাকা জরুরি। তাঁর মতে, বর্তমান শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী ও নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখবেন। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন।

 

 

 

বিনিয়োগের প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ মানেই শুধু সিকিউরিটিজ কেনাবেচা—এমন ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ পণ্য সম্পর্কে জানতে হবে এবং সেগুলোতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করতে হবে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনা বা ডাইভারসিফিকেশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে সিএসইর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ও সার্ভিল্যান্স বিভাগের প্রধান আরিফ আহমেদ বলেন, বর্তমান ডিজিটাল সময়ে পেশাগত যোগ্যতা ধরে রাখতে হলে নিয়মিত নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যে বিষয়েই পড়াশোনা করুন না কেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন।

আইআইইউসির অধ্যাপক নাজনীন জাহান চৌধুরী বলেন, ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের বিনিয়োগ, শেয়ারবাজার এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক—উভয় ধরনের জ্ঞান থাকা দরকার। বাজার কীভাবে পরিচালিত হয়, বিনিয়োগের নতুন পণ্য কী এবং বাজার ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া কেমন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি।

সহযোগী অধ্যাপক মো. আরিফুল হক বলেন, ভবিষ্যতে যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বাজার পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বিনিয়োগ পণ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের ঝুঁকি, সম্ভাব্য মুনাফা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিএসইতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং এ পর্যন্ত অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

 

 

 

সিএসইর হেড অব ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস এম সাদেক আহমেদ পুরো অধিবেশনটি পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি শেয়ারবাজারের সামগ্রিক কার্যক্রম এবং স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবহারিক পরিচালনা নিয়ে উপস্থাপনা দেন।

অনুষ্ঠানে সিএসইর পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন আরিফ আহমেদ ও মোহাম্মদ মাহাদি হাসান। আইআইইউসির প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক নাজনীন জাহান চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক মো. আরিফুল হক এবং সহকারী অধ্যাপক ড. নাজিম উল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *