বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আইসিবির চিঠি
পুঁজিবাজার প্রেস.কম : বর্তমান পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় ৯০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (আইসিবি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তহবিলটি ডিসেম্বর ২০৩২ পর্যন্ত চালু রাখা উচিত, যাতে ২০৩৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ঋণ ফেরত দেওয়ার সময়সীমা থাকে।
আইসিবি জানায়, ২০১০ সালের বাজার ধসের পর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের জন্য এই তহবিল গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি মূলত পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তহবিলের মেয়াদ শেষ হবে। আমরা মন্ত্রণালয়কে ২০৩২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেছি, যাতে ২০৩৩ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থ ফেরতের সুযোগ থাকে।”
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত অর্থবছরে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫,৩৪০ পয়েন্ট, যা অর্থবছরের শেষে নেমে আসে ৪,৮৩৬ পয়েন্টে। তবে জুলাই থেকে ব্যাংকিং খাত ও শক্তিশালী মৌলভিত্তিক শেয়ারগুলোর ওপর ভর করে বাজার কিছুটা পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখাচ্ছে।
আইসিবি কর্মকর্তারা বলেন, তহবিলের মেয়াদ না বাড়ালে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ ফেরত দিতে হবে। এতে তাদের হাতে থাকা বিনিয়োগ বিক্রি করতে হতে পারে, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী তহবিলের অর্থ বাজারে বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু বাজার মন্দার কারণে বড় ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান অস্থিরতা চলতে থাকলে ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।”
সরকার ২০১০ সালের ধসের পর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা ও বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন করে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তিন দফায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৯০০ কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়। আইসিবি ১৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ১৭টি ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ৩৪,৪৮১ জন বিনিয়োগকারীকে সহায়তা দিয়েছে। মূলধন এবং সুদসহ ৯৬৮.৭০ কোটি টাকা ফেরত এসেছে।
২০১৯ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় আইসিবিকে তহবিল পুনঃব্যবহারের অনুমতি দেয়। এরপর থেকে এটি ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজারদের কাছে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, তহবিলের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৯৮.৭১ কোটি টাকায়। আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, ৬৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ২,৪৭২.৩২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল, সাতটি অ্যাসেট ম্যানেজার, ১৪টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ৪৪টি ব্রোকারেজ হাউস রয়েছে।
ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত এই ঋণ থেকে মূলধন হিসেবে ১,৪৬৬.০৮ কোটি টাকা এবং সুদ হিসেবে ১১৩.২৪ কোটি টাকা ফেরত এসেছে। মার্চেন্ট ব্যাংকাররা সর্বোচ্চ ঋণ নিয়েছে ২,০৭৬ কোটি টাকা, আর ব্রোকাররা নিয়েছে ৩৭৯.৮০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে মার্চেন্ট ব্যাংকাররা ১,৩১১ কোটি টাকা এবং ব্রোকাররা ২৫৮.৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।
