বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
এক্সক্লুসিভ

ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তনের পর এবার আলোচনায় (বিএসইসি)তে পরিবর্তনের গুঞ্জন ‘

ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তনের পর এবার আলোচনায় (বিএসইসিতে পরিবর্তনের গুঞ্জন ”বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, মৌলভিত্তির কোম্পানি বাজারে আনা কিংবা বড় বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করার মতো কার্যকর উদ্যোগের বদলে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা শাস্তিমুখী ও বাজার-বিমুখ নানা সিদ্ধান্তেই বেশি মনোযোগী ছিল। ফলে বাজারে আস্থা ফেরেনি, বরং পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের দাবি—বিএসইসির কাঠামোগত পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের পর আর্থিক খাতে সংস্কারের যে বার্তা মিলেছে, তার প্রভাব এখন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিএসইসি)
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন সরকার শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিএসইসি পুনর্গঠনের প্রাথমিক খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার আর কোনো তাত্ত্বিক বা নিছক প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী নয়; বরং যারা দীর্ঘদিন ধরে বাজারের নাড়ি-নক্ষত্র চেনেন এবং মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে— এমন দক্ষ ব্যক্তিদের কমিশনের নেতৃত্বে আনার বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অন্তত ছয়জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ আকারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা পড়েছে। সম্ভাব্য এই তালিকায় যেমন রয়েছেন বরেণ্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কমিশনের সাবেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা, তেমনি রয়েছেন আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ এবং বাজারের প্রথিতযশা অংশীজনরা। দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে পেতে সরকার তালিকাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মাশরুর রিয়াজ। আন্তর্জাতিক সংস্থা- বিশ্বব্যাংকে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। শিক্ষা খাত থেকেও কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে আছেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন, যিনি শেয়ারবাজার সংস্কার সুপারিশ টাস্কফোর্সের সদস্য ছিলেন এবং এ খাতে দীর্ঘ ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া বাজার সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এর পরিচালক ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে শক্তিশালী কমিশন গঠন করা হলে বাজারে তারল্য বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি গতিশীল ও টেকসই শেয়ারবাজার গড়ে উঠবে। এখন দেখার বিষয়— গুঞ্জন কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়, আর নতুন নেতৃত্ব বাজারে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *