মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ‘কালপ্রিট’ হাসান তাহের ইমাম বিনিয়োগকারীদের ৭০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা
ডেস্ক রিপোর্ট -বাংলাদেশের মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির একক নিয়ন্ত্রক রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হাসান তাহের ইমাম। তিনি বিনিয়োগকারীদের কমপক্ষে ৭০০ কোটি টাকা লোপাট করে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এতে অনেক বছর ধরে অনাস্থায় ভুগতে থাকা মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ আরও বেশি হুমকিতে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসান তাহের ইমাম বিভিন্ন ছক কষে প্রতারণা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ফেলেছেন। তিনি তার নিয়ন্ত্রিত ব্রোকারেজ হাউজ মাল্টি সিকিউরিটিজকে ব্যবহার করে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন শত শত কোটি টাকা। ব্যবহার করেছেন তার ব্যক্তিস্বার্থের বেশকিছু কোম্পানির অ্যাকাউন্টও। এর মধ্যে রিট করপোরেশন, ভাইকিংস, টার্ন বিল্ডার্স, বিডি এসএমই করপোরেশন, একাসিয়া ফান্ডস, ইনভেস্ট এশিয়া ক্যাপের মতো অ্যাকাউন্টগুলো অন্যতম। উল্লিখিত এ সিকিউরিটিজগুলোর মাধ্যমেই জালিয়াতি করে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত শতকোটি টাকা, যা সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টত বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটপাট ও ফায়দা হাসিলের জন্য তিনি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির (বিজিআইসি) বোর্ডে থাকা তার নিকটতম তিন ব্যক্তিকে ব্যবহার করেছেন। অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বড় বোনকেও বিজিআইসিতে অন্তর্ভুক্ত করেন এই হাসান ইমাম।
৭০০ কোটি টাকা অনৈতিক লেনদেন : হাসান তাহের ইমামের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর পল্টন মডেল থানায় শতকোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের করেন মো. রুহুল আমিন আকন্দ নামে একজন বিনিয়োগকারী। অভিযোগে বলা হয়, হাসান তাহের ইমাম ছলচাতুরী ও অন্যায়-অনিয়মের মাধ্যমে ১২টি মিউচুয়াল ফান্ড ও একটি এসপিভি কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে রুহুল আমিনের ব্যক্তিগত ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া হাসান তাহের নিয়মবহির্ভূতভাবে তার নিয়ন্ত্রিত ব্রোকারেজ হাউজ মাল্টি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বেশি হারে কমিশন নিয়েছেন। শুধু ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে বিনিয়োগকারীদের থেকে ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেন কমিশন বাবদ ৫০-৬০ কোটি টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে।
