বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬
আজকের সংবাদ

রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারে কারসাজিতে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় চার ব্যক্তি ও ১২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে অবৈধভাবে মুনাফা অর্জনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই রূপালী লাইফের শেয়ার নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কারসাজির অভিযোগ বাজারে আলোচিত ছিল। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীকে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ–এর নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগের আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তদন্তে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মে মাসে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে রূপালী লাইফের শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে তোলে এবং সুবিধাজনক সময়ে শেয়ার বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করে।
তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ মে কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারদর ছিল ৯০ টাকা, যা ৩১ মে বেড়ে দাঁড়ায় ২০১ টাকা ৯০ পয়সায়। অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায় ১১১ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় ১২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ—যা স্বাভাবিক বাজার আচরণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই সময়ের লেনদেন পর্যালোচনায় শতরং অ্যাগ্রো ফিশারিজ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কারসাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বন্ধু খাদ্যভাণ্ডারকে। এছাড়া নাঈম অ্যাগ্রো ফার্মকে ৭৯ লাখ, শতরং অ্যাগ্রো ফিশারিজ লিমিটেডকে ৭৮ লাখ, কবির ট্রেডার্সকে ৫৫ লাখ, হৃদয় পোলট্রি ফার্মকে ৫৩ লাখ, সরকার অ্যাগ্রো ফার্মকে ৪৭ লাখ, আমানত অ্যাগ্রো ফিশারিজ ও হাসান নার্সারিকে ৪৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
পাশাপাশি নাসরিন রহমানকে ২৪ লাখ, উইন্ডো ডিজাইন পার্ককে ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মুক্তা ফিশারিজ, সাব্বির স্টোর, শাম্মী নেওয়াজ, আবু নাঈম, কামরুল হাসান মো. ইকবাল গনি ও মিমোনা কসমেটিকস হাউজকে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(২) ও ১৭(ই)(৫) ধারা এবং বিএসইসি (উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার অর্জন, অধিগ্রহণ ও কর্তৃত্ব গ্রহণ) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(১) লঙ্ঘনের দায়ে এই শাস্তি আরোপ করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং প্রয়োজনে এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের মাধ্যমে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কঠোর অবস্থান বাজারে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *