শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব নয়: ডিএসই চেয়ারম্যান
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাফিজ মুহাম্মদ হাসান বাবু বলেন, আমাদের শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ারবাজারের প্রধান নেতা। এজন্য আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। তাহলে দেশের শেয়ারবাজার এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে শেয়াবাজারকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সোমবার (১৪ আগস্ট) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ও ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসব কথা বলেন ডাঃ হাসান বাবু।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতৃত্ব বাংলাদেশে বিরল। বাংলাদেশের মাটিতে তার মতো বলিষ্ঠ কণ্ঠের, তার মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্বের আর একজনকে দেখিনি।
তিনি বলেন, এদেশে সবচেয়ে বড় অভাব দেশপ্রেম ও সততার। একটি দেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম থাকলে তাদের মধ্যে সততা চলে আসবে। দেশ প্রেমের এই অভাবের জন্যই আজ আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি।

ডাঃ হাসান বাবু বলেন, তবে আমরা সৌভাগ্যবশত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে যে মিল খুঁজে পাই তা হলো দেশপ্রেম, মহান দেশপ্রেম। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী দুজনেই খুব স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। তাদের দুজনেরই কোনো লোভ নেই।
শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এই আশ্বাস দিতে পারি, আমরা আপনাদের সেবা দিতে বসেছি। আমরা সবসময় আপনার কথা চিন্তা করি। আমরা এক বা দুই দিনে কিছু করতে সক্ষম নাও হতে পারি, কিন্তু আমরা সবসময় আপনার পাশে আপনার জন্য কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এখান থেকে যা পেলাম সেটা বড় কথা নয়। আমাদের শেয়ারবাজার আজ পিছিয়ে থাকার অনেক কারণ রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে অর্থনীতি নির্ভর করে পুঁজিবাজারের ওপর। তাই আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশের মতো অর্থনীতির স্বপ্ন দেখছেন, তিনি পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা ভাবছেন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যখন দেশের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সর্বহারাদের আশ্রয় দেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি সংবিধান, পেয়েছি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। আর বঙ্গবন্ধু আজ দেশের সব পরিকল্পনার বীজ বপন করেছিলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে নামমাত্র জিডিপি ২৮ শতাংশ বেড়েছে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তা নেমে আসে ৬ শতাংশে। আমরা খুবই ভাগ্যবান যে তার দুই মেয়ে বেঁচে গেছে। দেশে ফিরে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করেন, তারপর থেকে আমরা আবার অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন করেছি, তিনি জাতিকে বিদ্যুৎ খাতের চরম সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
ডিএসইর সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে অনেক নেতা ছিলেন, ভবিষ্যতেও অনেক থাকবেন। এই নেতাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে আলাদা করা হয়েছে কারণ তার আগে আর কোনো নেতা সমগ্র বাঙালিকে কোনো একক বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই আজ আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি।
সিএমএসএফ চেয়ারম্যান। নজিবুর রহমান বলেন, আমাদের সবার হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্য জায়গা আছে। আমি যখনই বিদেশে গিয়েছি, দেখেছি যখনই মানুষ বাংলাদেশের কথা শুনে, তখনই শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বলে। বাংলাদেশ মানে শেখ মুজিবুর রহমান।
পুঁজিবাজার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, যারা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল তারা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলে তার স্বপ্ন শেষ হবে, তার আশা শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। আজ বঙ্গবন্ধু আর নেই, তার স্বপ্ন, তার আদর্শ, তার চেতনা সঞ্চারিত হয়েছে বাঙালি জাতির মধ্যে। ফলে একাত্তরের ক্ষতিগ্রস্থ এ দেশ আজ সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মৃধা বলেন, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতার কারণেই দেশের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। জাপানিরা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গবেষণা করেছে। তারা গবেষণা করে দেখেছে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। জাপানিরা ইতিমধ্যে কক্সবাজার জোনে অনেক বিনিয়োগ করেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার। বক্তব্য রাখেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী, প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ডিবিএ সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও।
