মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ব্যাংক

২৯ খেলাপি গ্রাহককে ঋণ পরিশোধের সময় বেঁধে দিল জনতা ব্যাংক

খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির ২৯ জন খেলাপি গ্রাহকের সঙ্গে পৃথকভাবে ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ বৈঠকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, বকেয়া অর্থ, চলমান মামলা এবং ভবিষ্যৎ পরিশোধ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দিলকুশায় জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল মজিদ, আব্দুল আওয়াল সরকার ও খন্দকার মামুন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবুর রহমানসহ উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে খেলাপি গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিলসহ পরিশোধের বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করলে চলমান মামলা ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রমে ছাড় দেওয়া হবে না বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবুর রহমান বলেন, ২৯ জন খেলাপি গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে এবং তাদের ঋণ পরিশোধের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হলে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে না। ডিসেম্বরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক সূত্র জানায়, বৈঠকে অংশ নেওয়া খেলাপিদের মধ্যে যারা ঋণ পরিশোধে আগ্রহী, তাদের আর্থিক সক্ষমতা এবং বাস্তবসম্মত পরিশোধ পরিকল্পনা যাচাই করা হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের ক্ষেত্রে ঋণ আদায়ের বাস্তব সুযোগ থাকলে বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঋণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া নেওয়া হবে না।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ‘রিকভারি হেড-টু-হেড’ বৈঠকের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধে সক্ষম ও আগ্রহী গ্রাহকদের সঙ্গে অন্যদের আলাদা করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন গ্রাহকের প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রায় ২০ বছর ধরে বিভিন্ন সুবিধা ও সময় বাড়ানোর মাধ্যমে চলমান ছিল। এবার ওই গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জনতা ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বারবার ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রকৃত অর্থ আদায় করা। গ্রাহকরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করলে আইন ও ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

এদিকে সাম্প্রতিক নীতিমালায় এককালীন ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে সুদ ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণখেলাপির কারণ, আর্থিক সক্ষমতা এবং গ্রাহকের পরিশোধের আচরণ বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কৃষিঋণের ক্ষেত্রে প্রকৃত সমস্যায় পড়া গ্রাহকদের নীতিমালার আওতায় সুবিধা দিয়ে মূল ঋণের অর্থ আদায়কে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত রয়েছে।

জনতা ব্যাংকের এই সরাসরি বৈঠক ও সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি নতুন করে জোরালো উদ্যোগ নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *