৬ মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে এলআর গ্লোবালকে অপসারণ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিতর্কিতভাবে বিনিয়োগ করে ইউনিটধারীদের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকের (অ্যাসেট ম্যানেজার) দায়িত্ব থেকে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে অপসারণ করেছে । সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড-এর সম্পদ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে অপসারণ করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সিকিউরিটিজ আইন ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে এলআর গ্লোবাল এসব ফান্ডের অর্থ কোয়েস্ট বিডিসিতে বিনিয়োগ করে। এতে সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর ইউনিটধারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রসত
অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানটিকে চার দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং শুনানির সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো শুনানিতেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। এছাড়া তাদের লিখিত ব্যাখ্যাও কমিশনের কাছে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এলআর গ্লোবালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ইউনিটধারীদের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। এ কারণে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৩১(৩) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৯৭তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
বিএসইসির তদন্তে উঠে এসেছে, বন্ধপ্রায় ও দুর্বল আর্থিক অবস্থার পদ্মা প্রিন্টার্স (বর্তমানে কোয়েস্ট বিডিসি)-এর ৫১ শতাংশ শেয়ার বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে কিনেছিল এলআর গ্লোবাল। সে সময় শেয়ারটির বাজারদর ছিল ১৩ টাকার কিছু বেশি। অথচ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি শেয়ার ২৮৯ টাকায় কিনেছিল।
এ ছাড়া ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ১৫ দশমিক ৮৮ টাকায় কেনা হলেও একই সময়ে এলআরজি ভেঞ্চার একই শেয়ার ১০ টাকায় কিনেছিল। বিএসইসির ভাষ্য, এতে এলআরজি ভেঞ্চার লাভবান হলেও সংশ্লিষ্ট ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটধারীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, ট্রাস্টির পূর্বানুমোদন ছাড়াই কোম্পানির পরিচালনায় অংশগ্রহণ, নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালক নিয়োগ এবং ২০২২ সাল থেকে বিনিয়োগের বিপরীতে ফান্ডগুলোকে কোনো মুনাফা না দিয়ে ইউনিটধারীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলআর গ্লোবালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা (সিআইও) রিয়াজ ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায় তাঁর মুঠোফোন।
