মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
আজকের সংবাদ

“ডিসেম্বরে টি+১ ও স্ক্রিপ্ট নিটিং চালুর চেষ্টা ডিএসইর”

শেয়ারবাজারে লেনদেন ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। ডিএসই এমডি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন কোনো ব্যবস্থা বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ ব্যবস্থা সম্পর্কে নুজহাত আনোয়ার বলেন, এ দুটি বিষয় নিয়ে ডিএসই ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিএসইসির পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থা দুটি চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশনাও পাওয়া গেছে। তবে ডেরিভেটিভস চালুর আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান ডিএসই এমডি।

এদিকে শিল্প খাতের শ্রেণিবিন্যাস ও ক্যাটাগরাইজেশনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিএসই বোর্ডের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

নুজহাত আনোয়ার বলেন, নতুন কোনো নিয়ম বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক গতি যাতে ব্যাহত না হয় এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেনের জন্য আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজও করছে ডিএসই। এমডি জানান, এই প্ল্যাটফর্ম চালু হলে মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন আরও সহজ করার পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

বিএসইসির বর্তমান নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা একটি মডিউল তৈরির কাজ চলছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রস্তাবিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড কেনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিডিম করার সুযোগ পাবেন বলে জানান ডিএসই এমডি।

বন্ড মার্কেটের উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান নুজহাত আনোয়ার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মূল্য ও চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় বন্ড মার্কেট উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাজারে আসা বন্ডগুলো যেন মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ডিএসই এমডি বলেন, বন্ড বাজারে এ বিষয়ে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কিছু বন্ডকে মূল বোর্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ড মার্কেটে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ড লেনদেন বাড়াতে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ারবাজারের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে নাসডাকের নতুন সফটওয়্যারভিত্তিক ম্যাচিং ইঞ্জিন চালুর প্রকল্পও শুরু করেছে ডিএসই। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে নতুন এই ব্যবস্থা লাইভে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।ডিএসই এমডি বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া ডিএসইর ডিজাস্টার রিকভারি (ডিআর) ব্যবস্থা ডিসেম্বরের মধ্যে আপডেট করার চেষ্টা চলছে। পুঁজিবাজারের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সফটওয়্যার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে টি+১ ও স্ক্রিপ্ট নিটিং চালু, মিউচুয়াল ফান্ডের আলাদা প্ল্যাটফর্ম, বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ, আর্থিক ডেরিভেটিভস এবং নতুন ম্যাচিং ইঞ্জিন—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শেয়ারবাজারের লেনদেন ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা করছে ডিএসই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *