যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও কোম্পানির প্রতিবেদন ঘিরে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা
পুঁজিবাজার প্রেস প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এশিয়ার প্রধান পুঁজিবাজারগুলোতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের ফিউচার সূচকেও বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অ্যাপলের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর কোম্পানিটির শেয়ারে দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোন্স সূচকের ফিউচার ১৬১ পয়েন্ট কমেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারও শূন্য দশমিক ১ শতাংশের কম কমেছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক ১০০ ফিউচার শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে।
অ্যাপলের শেয়ারের দাম লেনদেন-পরবর্তী সময়ে প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। ছুটির মৌসুমে মুনাফার হার নিয়ে কোম্পানিটির পূর্বাভাস প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আইপ্যাড বিক্রিও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস পূরণ করতে পারেনি।
এশিয়ার বাজারগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। দেশটির বড় কোম্পানি স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ারও ৪ দশমিক ০৪ শতাংশ দর হারিয়েছে। বিপরীতে হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। চীনের সিএসআই ৩০০ সূচকে সামান্য পতন হয়েছে। সরকারি ছুটির কারণে জাপানের শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত লেনদেনে নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ কমে। তবে ডাও জোন্স সূচক ২১৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়েছিল।
এদিন প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারেও বড় দরপতন দেখা যায়। মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার প্রায় ১২ শতাংশ এবং লুমেন্টামের শেয়ার ১৮ শতাংশ কমে। মার্ভেল ১১৫ বিলিয়ন ডলারে লুমেন্টাম অধিগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন শেয়ার ও বন্ড বিক্রির পরিকল্পনা জানানোর পর ওরাকলের শেয়ার ৮ শতাংশ কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। দেশটির কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যায়, তার ওপর প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের নীতিনির্ধারণ এবং তদারকিতে প্রভাব পড়তে পারে।
জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে পারে। তবে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে গেলে বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন কিছু বিশ্লেষক।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। এর মধ্যে ফাইজার, শপিফাই, ইটন ও ম্যারাথন পেট্রোলিয়াম রয়েছে। দিনের পরবর্তী সময়ে এএমডি ও সুপার মাইক্রো কম্পিউটারের প্রতিবেদন প্রকাশের কথা। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের চাকরির বাজারসংক্রান্ত তথ্য এবং কারখানার নতুন ক্রয়াদেশের পরিসংখ্যানের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
