চীনের পুঁজিবাজারে উত্থান, ধনীদের সম্পদ বেড়েছে ৩১ শতাংশ
সিইও চেন তিয়ানশি–র সম্পদও প্রায় তিন গুণ বেড়ে ২১ বিলিয়ন বা ২৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ‘চীনের এনভিডিয়া’ হিসেবে খ্যাত এই এআই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের আইপিওর পর আগস্টে এই প্রথম নিট মুনাফা ঘোষণা করেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৪০ মিলিয়ন বা ১৪ কোটি ডলার নিট মুনাফা ঘোষণা করে।
এ বছরের তালিকায় আটজন নতুন ধনকুবের স্থান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শীর্ষে আছেন ডিপসিকের প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার। তালিকায় তাঁর অবস্থান ৩৪।
চীনের এআই প্রতিষ্ঠান ডিপসিক জানুয়ারিতে তাদের স্বল্প খরচের এআই মডেল উন্মোচন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণ আলোড়ন তোলে। বৈশ্বিক এআই–ঝড়ের মধ্যেই রেঞ্জ ইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটিং টেকনোলজি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ঝৌ চাওনান এই প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৫৩০ কোটি ডলার। এই পরিমাণ সম্পদ নিয়ে তাঁর অবস্থান ৮৫তম।
আগের বছরের তালিকা থেকে ছিটকে পড়লেও ছয়জন ধনী এবার আবারও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন ইকোভ্যাকস রোবোটিকসের প্রতিষ্ঠাতা চিয়ান দোংছি। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির বিক্রি বাড়ায় কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৩৮ মিলিয়ন বা ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারে উঠেছে।
সব ধনীর যে সম্পদ বেড়েছে, তা নয়। কিছু কিছু ধনীর সম্পদ কমেছেও। সবচেয়ে বেশি সম্পদ কমেছে মেইতুয়ানের চেয়ারম্যান ও সিইও ওয়াং শিং–এর। আলিবাবা ও জেডি ডটকমের সঙ্গে তীব্র মূল্যযুদ্ধের কারণে খাদ্য ডেলিভারি করা এই কোম্পানির মুনাফা কমে যাওয়ায় তাঁর সম্পদ ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ৬২০ কোটি ডলার; অর্থাৎ ৪২ শতাংশের বেশি কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৮৪০ কোটি ডলার।
যে ১৪ জন ধনী শীর্ষ ১০০ ধনীর তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন দালিয়ান ওয়ান্ডা গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়াং জিয়ানলিন। তাঁর আবাসন সাম্রাজ্য সম্প্রতি তারল্য–সংকটে পড়ে একের পর এক সম্পদ বিক্রি করছে।
এদিকে তালিকায় স্থান পাওয়ার ন্যূনতম মানদণ্ড বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর তালিকায় স্থান পেতে ন্যূনতম সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ডলার। এবার তা বৃদ্ধি করে ৪৬০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।
