রহিমা ফুডের শেয়ারে কারসাজির প্রমাণ পেল বিএসইসি
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেডের শেয়ারের দামে কারসাজির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্তে দেখা গেছে, একই ব্যক্তি একাধিক বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব ব্যবহার করে নিজের কাছেই শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। এতে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন না হলেও বাজারে কৃত্রিম লেনদেন ও চাহিদা তৈরি হয়েছে।
বিএসইসির নির্দেশনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্ত দল ২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনা করে। তদন্তে দেখা যায়, এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬৮ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র আড়াই মাসে শেয়ারটির দর বেড়েছে ১০০ টাকা বা ১৪৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. দেলোয়ার হোসেন নামে এক বিনিয়োগকারী তিনটি পৃথক বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করেছেন। হিসাবগুলো ছিল এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ, শেলটেক ব্রোকারেজ ও আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজে। কোথাও তার নাম ‘মো. দেলোয়ার হোসেন’, আবার কোথাও ‘ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে তিনি ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৩টি শেয়ার কিনেছেন এবং ২ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৩টি শেয়ার বিক্রি করেছেন। মোট লেনদেনের প্রায় ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছিল তার মাধ্যমে। তিনি ছিলেন শেয়ারটির সর্বোচ্চ ক্রেতা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রেতা।
তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সকাল ১০টা ১০ মিনিটে দেলোয়ার হোসেন নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বিও হিসাবের মধ্যে হাওলা লেনদেনের মাধ্যমে ২ হাজার ৮৬টি শেয়ার স্থানান্তর করেন। প্রতি শেয়ারের মূল্য ছিল ১৩৪ টাকা।
এ লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ছিলেন তিনি নিজে। ফলে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা অপরিবর্তিত থাকে। তদন্তে বলা হয়েছে, এ ধরনের লেনদেন বাজারে কৃত্রিম চাহিদা ও সক্রিয় লেনদেনের ধারণা তৈরি করে, যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(৩) ধারা অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
তদন্তে আরও দেখা যায়, আব্দুল মোবিন, আব্দুল হাফিজ জোয়ারদার তুহিন, তাসনিয়া তাহসিন, কৃষ্ণ দাস, বিজন পাল, ইমরানী, নাজমুল হোসেন, আলমগীর কবীর, সত্যজিৎ মজুমদার ও এ কে এম গোলাম বোহলুলও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। তবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক কোনো সম্পর্ক বা সমন্বিত লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আব্দুল মোবিন ২ লাখ ৬৩ হাজার ২১টি শেয়ার কিনে ২ লাখ ২৫ হাজার ৪০২টি বিক্রি করেন। আব্দুল হাফিজ জোয়ারদার তুহিন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭০টি শেয়ার কিনে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০টি বিক্রি করেন। তাসনিয়া তাহসিন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৪টি শেয়ার কিনে একই সংখ্যক শেয়ার বিক্রি করেন।
সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় বিষয়টি এখন বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের বিবেচনায় রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা, নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
