মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
আজকের সংবাদ

সিএসইতে এবিজির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত শেয়ার ব্লকের নির্দেশ বিএসইসির

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী এবিজি লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত শেয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নির্ধারিত সীমার বেশি শেয়ার ধারণের কারণে এবিজির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ে লিমিটেডের ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৯৩২টি শেয়ার ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত শেয়ারগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিক্রি, হস্তান্তর, বন্ধক বা অন্য কোনোভাবে স্থানান্তর করা যাবে না।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী, কোনো কৌশলগত বিনিয়োগকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে ওই বিনিয়োগকারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার ধারণ করতে পারবে না।

সিএসইর ক্ষেত্রে এবিজি লিমিটেডের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ২৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি এবিজির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের হাতে রয়েছে আরও শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার। ফলে দুই পক্ষের সম্মিলিত শেয়ার ধারণ দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৫১ শতাংশে। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমার চেয়ে শেয়ার ধারণের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।

এ পরিস্থিতিতে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) অতিরিক্ত ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৯৩২টি শেয়ার অবিলম্বে ব্লক করার ব্যবস্থা নিতে বলেছে বিএসইসি।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ব্লক করা শেয়ারের বিপরীতে ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডাররা সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন। তবে এসব শেয়ারের বিপরীতে বোনাস বা রাইট শেয়ার ইস্যু হলে সেগুলো সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারের নামে ইস্যু করতে হবে। নতুন ইস্যু করা শেয়ারও বিদ্যমান ব্লক করা শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আটকে থাকবে।

এ ছাড়া স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের ব্লক করা শেয়ার বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে দ্রুত এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যারা এবিজি লিমিটেডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নের পর এ বিষয়ে সিএসই ও সিডিবিএলকে লিখিতভাবে কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির এ নির্দেশনা এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ এবং ডিপোজিটরি আইন, ১৯৯৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০২৩-এর নির্ধারিত বিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতেও এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবিজি লিমিটেড কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে এক্সচেঞ্জটির ২৫ শতাংশ শেয়ার নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে লেনদেন নিষ্পত্তি, অর্ডার ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ট্রেডারদের প্রশিক্ষণ এবং ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করার কাজও এগিয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে প্রস্তুত করার কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারের প্রচলিত সিকিউরিটিজের পাশাপাশি পণ্যভিত্তিক ডেরিভেটিভস লেনদেনের জন্য একটি নতুন বাজার কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত শেয়ার ধারণ নিয়ে বিএসইসির এই নির্দেশনা এসেছে। ফলে নির্ধারিত মালিকানা সীমা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের শেয়ার ধারণের বিধান পরিপালনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *