মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
আজকের সংবাদ

দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের আভাস

দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের আভাস মিলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মিলিয়ে ২২টি ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড ভেঙে নতুনভাবে গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এসব ব্যাংকের বোর্ডকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবমুক্ত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এর অংশ হিসেবে ছয় মাসের মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কিছু ব্যাংককে একীভূত (মার্জার) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে একাধিক ইসলামী ধারার ব্যাংককে একীভূত করে একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল।
তবে এসব পদক্ষেপ শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযোগ ওঠে, নতুন বোর্ডে নিয়োগ পাওয়া কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ফলে ব্যাংকিং খাতে কাঙ্ক্ষিত সুশাসন কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।
জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট ২২টি ব্যাংকের বর্তমান বোর্ডের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সম্পূর্ণ নতুন বোর্ড গঠন করা হবে।
বিশেষ করে যেসব ব্যাংকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কমপ্লায়েন্স ও করপোরেট গভর্ন্যান্স দুর্বল, সেসব ব্যাংকে দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাত অর্থনীতির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ। তাই বোর্ড পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। শুধু আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে তফসিলভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। এত বড় খাতে কার্যকর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।”
সব মিলিয়ে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত ব্যাংক বোর্ড পুনর্গঠন দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে—তবে এ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও দক্ষতাভিত্তিক হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *