মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের অস্বাভাবিক দামে সতর্ক বিএসইসি
শেয়ারবাজারে কিছু মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট সংশ্লিষ্ট ফান্ডের নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভির তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শুধু ইউনিটের বাজারদর বাড়ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
একই সঙ্গে গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে বিএসইসি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারমূল্য এবং এর অন্তর্নিহিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও অস্বাভাবিক ব্যবধান থাকলে তা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার বিষয়। কারণ, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মূল্যায়নে ফান্ডের অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্য তথা এনএভি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
মিউচুয়াল ফান্ড একটি নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ মাধ্যম। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন আর্থিক ইন্সট্রুমেন্ট ও বিনিয়োগযোগ্য সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। এসব সম্পদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফান্ডের মোট সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এরপর ফান্ডের দায়-দেনা বাদ দিলে যে নিট সম্পদমূল্য পাওয়া যায়, সেটিই ফান্ডের এনএভি।
মোট নিট সম্পদমূল্যকে ফান্ডের মোট ইউনিট সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতি ইউনিটের এনএভি নির্ধারণ করা হয়। বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পদ ব্যবস্থাপক নিয়মিতভাবে ফান্ডের এনএভি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করে থাকে।
বিএসইসি জানিয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট সংশ্লিষ্ট ফান্ডের প্রতি ইউনিটের এনএভির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে শেয়ারবাজারে লেনদেন হচ্ছে। বাজারদর ও এনএভির এমন বড় ব্যবধান বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
কমিশন বলেছে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ড অবসায়ন করা হলে ইউনিটহোল্ডারদের ওই ফান্ডের নিট সম্পদমূল্যের তুলনায় বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ফান্ডের অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি দামে ইউনিট কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় শুধু কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর বেড়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্যও সতর্ক করেছে কমিশন।
বিএসইসি জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে শুধু বাজারদর নয়, ফান্ডের প্রকৃত সম্পদমূল্য, আর্থিক অবস্থা, মেয়াদ, বিনিয়োগের ধরন বা পোর্টফোলিও এবং প্রকাশিত অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব তথ্য যাচাই করে জেনে-বুঝে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
