অনুমতি ছাড়াই শেয়ার লেনদেন, এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে নির্দেশ
বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়াই তাঁর বিও হিসাবে থাকা শেয়ার কেনাবেচা, মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা এবং হিসাবে জমা থাকা অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখার বিরুদ্ধে। বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখা থেকে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে আবুল কালাম আজাদের হিসাবে জমা করা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে বলা হয়েছে।
এর আগে গত আগস্টে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আবুল কালাম আজাদ। এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের ০৩৯২৬ নম্বর বিও হিসাবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জমা করা অর্থ ফেরত এবং কেটে নেওয়া সুদের অর্থ মওকুফের আবেদন করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, বিএসইসির কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। মন্ত্রণালয় থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযোগটি যাচাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবেদনে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখা তাঁর অজ্ঞাতসারে বিও হিসাবে জমা থাকা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা দিয়ে বিভিন্ন শেয়ার কেনাবেচা করেছে। নাহিদ, আসিফ, মাকসুদ ও সানি নামের কয়েকজন ট্রেডার তাঁর অনুমতি ছাড়াই এসব লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা হয়েছে। এসব শেয়ারের মধ্যে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ও ম্যাকসন্স স্পিনিং রয়েছে। এসব শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও তাঁর কাছ থেকে কোনো অনুমতি বা নির্দেশনা নেওয়া হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, কোনো ক্রয়াদেশ ছাড়াই তাঁর হিসাবে বিভিন্ন শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছে। এসব লেনদেনের কারণে হিসাবে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে এবং তাঁর বিনিয়োগের অর্থেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর সুদ মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি। তাঁর আবেদনটি এখনো ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফাইলবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৬ নভেম্বরের পোর্টফোলিও তুলনা করলে তাঁর হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি পাওয়া যাবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরেফিন, নাজমা খাতুন ও আদনান দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন আবুল কালাম আজাদ।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়া তাঁর বিও হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা গুরুতর অনিয়মের শামিল। একইভাবে মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা এবং বিনিয়োগকারীর অর্থ অন্যভাবে ব্যবহারের অভিযোগও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীর সম্পদ সুরক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর অর্থ ও স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
