অপ্রকাশিত তথ্য নেই, তবু দুই মিউচুয়াল ফান্ডের দামে অস্বাভাবিক উত্থান
কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দামে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও আইসিবি এমসিএল ২য় মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম ও লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ড দুটির সম্পদ ব্যবস্থাপক আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ডিএসইকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মূল্য ও লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটি ইউনিটের দাম ছিল ২০ টাকা ৮০ পয়সা। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ সেপ্টেম্বর ইউনিটটির দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ টাকা ৪০ পয়সায়। অর্থাৎ চলতি মাসে ফান্ডটির ইউনিটের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ।
অস্বাভাবিক এই উত্থানের বিষয়টি আরও কৌতূহল তৈরি করেছে ফান্ডটির সাম্প্রতিক আর্থিক চিত্রে। কারণ টানা দুই অর্থবছর কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। একই সঙ্গে আগের সময়ে ফান্ডটি লোকসানের মধ্যে ছিল।
তবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ফান্ডটির আর্থিক সূচকে কিছুটা উন্নতির চিত্র পাওয়া গেছে। জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ সময়ে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইউনিটপ্রতি ১৭ পয়সা লোকসান হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইউনিটপ্রতি আয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাজারমূল্যে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৮০ পয়সায়, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৮ টাকা ৫৯ পয়সা। তবে ইউনিটপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিইউ) এখনো ঋণাত্মক রয়েছে। এ সময়ে এনওসিএফপিইউ ছিল ঋণাত্মক ১ টাকা ৬৪ পয়সা।
অন্যদিকে, একই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে আইসিবি এমসিএল ২য় মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটেও। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফান্ডটির ইউনিটের দাম প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১০ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠে। ১৬ সেপ্টেম্বর ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ছিল ৭ টাকা ৩০ পয়সায়।
আইসিবি এমসিএল ২য় মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও ডিভিডেন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে হতাশার চিত্র রয়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ফান্ডটির ট্রাস্টি কোনো ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেনি। এর ফলে টানা দুই অর্থবছর ফান্ডটির ইউনিটধারীরা কোনো ডিভিডেন্ড পেলেন না। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরেও ফান্ডটি লোকসান করেছিল।
তবে ২০২৬ অর্থবছরে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা, যেখানে ২০২৫ অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ১৭ পয়সা লোকসান ছিল। অর্থাৎ এখানেও লোকসান থেকে আয়ে ফেরার চিত্র দেখা গেছে।
দুটি ফান্ডেরই সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও ইউনিটের বাজারদরের সঙ্গে এনএভির ব্যবধান এবং ডিভিডেন্ড না দেওয়ার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর মধ্যেই অল্প সময়ে ইউনিটের দাম প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি ডিএসইর নজরে আসে।
তবে ডিএসইর জিজ্ঞাসার জবাবে সম্পদ ব্যবস্থাপক আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি জানিয়েছে, এই অস্বাভাবিক মূল্য ও লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।
