সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
অর্থনীতি

কূটনৈতিক আলোচনায় কমল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

পুঁজিবাজার প্রেস প্রতিবেদক :  কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত নতুন করে বাড়তে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে বাজারে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে তেহরান ও দোহার কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চলছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ নভেম্বর) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ১১১ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় অক্টোবরে ব্রেন্ট তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের উত্থানের পর সোমবার সকালে বাজারে প্রযুক্তিগত সংশোধন দেখা যাচ্ছে।

তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সপ্তাহান্তে বড় কোনো সামরিক সংঘাত না হওয়ায় আপাতত জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক মূল্যচাপ কিছুটা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, তিনটি জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা সত্ত্বেও অক্টোবরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে তুলনায় গত মাসে দেশটির তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ মিত্র দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস রোববার ডিসেম্বর মাসের তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আগামী বছরের আগে উৎপাদন নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন না আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *